“প্রতিবেশি দুই দেশ ইরান ও তুরস্ক। তুরস্কের আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর ইরানে নেই মেঘের ছিটেফোটাও। পাশাপাশি দুই দেশে জলবায়ুর ধরনে কেন এত পার্থক্য এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। কেউ কেউ বলছেন উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরান থেকে মেঘ চুরি করছে তুরস্ক। ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তেহরান।”
চ্যানেল ২৪ এর ১৫ জানুয়ারীর একটি খবরের অংশ। এটি এ পর্যন্তই থাক। যাওয়া যাক এ্যা রাফ গাইড টু হেল শিরোনামে তৈরি দ্যা ইকনোমিস্ট ম্যাগাজিন কাভারের দিকে। তবে কাভারের সবকিছু নয়। শুধু জলবায়ু পরিবর্তন অংশটুকু।
জলবায়ু পরিবর্তন কি দ্যা ক্লাব অফ রোমের (THE CLUB OF ROME) তৈরি করা একটি কৃত্তিম সংকট? বছরের পর বছর ধরে যা হচ্ছেনা তাই কি বারবার বলে আসা হচ্ছে? এনজিও ফান্ডিং, মিডিয়া, সুশিল সমাজ ইত্যাদির মাধ্যমে এই ক্লাইমেট চেঞ্জ শব্দকে আমাদের কানে গেঁথে দেয়া হয়েছে। আসলেই কি প্রকৃতির ধারন ক্ষমতা এতটাই ঠুনকো, নাকি বাড়িয়ে বলা হয়েছে সুদূরপ্রসারী কোন লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে? প্রকৃতির যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে সেটাও কি কৃত্তিমভাবে তৈরি করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?
এ্যা রাফ গাইড টু হেল
সম্ভবত ২০২২ সালে এসে ২০১২ সালে প্রকাশিত এ্যা রাফ গাইড টু হেল শিরোনামে দ্যা ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের কাভার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। কাভার ডিজাইনের দিকে চোখ বুলালেই এর কারন বুঝা যায়। এখনকার বড় বড় ঘটনাগুলো ঠিক যেন সেই কাভার ডিজাইনের প্রতিচ্ছবি।
নিচের ছবিকে প্রথমেই দুটি দলে ভাগ করে নেয়া যাক। একটা দলে দুই শিংওয়ালা এবং অন্যরা শিং ছাড়া। পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়েছে যে, শিংওয়ালারা হলো লুসিফার বা ইবলিশের অনুসারী। শিং ছাড়াদের মধ্যে আবার দুই ভাগ করা যায় যেমন একপক্ষের হাস্যজ্জল মুখ, অপর আরেক পক্ষ উত্তপ্ত আগুনে ডুবে আছে। শিংওয়ালাদের প্রত্যেকের মাথায় দুটি শিং, পিছনে একটি লেজ।
ম্যাগাজিন হাতে দাঁড়িয়ে শিংওয়ালাদের সর্দার যেনো এগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিচ্ছে। তার ঠিক পাশেই “CLIMATE CHANGE” লেখাযুক্ত একটি যন্ত্র। এই একটি চিত্রই বুঝার জন্য যথেষ্ট যে, শিংওয়ালাদের যত অস্ত্র আছে তার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
এটি ২০১২ সালের ম্যাগাজিন কাভার হলেও বর্তমান সময়ে প্রচণ্ডভাবে প্রাসঙ্গিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঠিক এই মূহুর্তে আমরা কাভারে চিত্রিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এটা তাদের কাজের একটি কৌশল। দীর্ঘদিন ধরে কোন বিষয়ের পরিকল্পনা করে মাঠে নামে। এটিকে ঠিকভাবে ডিকোড করে উপস্থাপন করা হলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বহুরকমের সাপ বের হয়ে আসবে। কাজেই সুবোধরা দেখেও না দেখার ভান করে কেটে পরবে। অথবা কেন এটিকে ডিকোড করতে হবে এই ক্রোধে বিধ্বস্ত হবে। যদিও স্ক্রিপ্ট রচনাকারী মূল শিংওয়ালাদের এতে কিছুই যায় আসে না। তারা এখন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে। কে কি লিখল, ভিডিও বানালো নাকি বই বের করল এসবে তাদের কিছু আর যায় আসে না।

ক্লাইমেট চেইঞ্জ বললেই মাথায় আসে পরিবেশগত বিপর্যয় আর এনজিওদের সচেতনতামূলক প্রকল্প ও আলোচনার দৃশ্য। এগুলোই আমাদের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছে। ক্লাইমেট চেইঞ্জ আবার ধ্বংসের মূল অস্ত্র হয় কিভাবে তা বহু মানুষের কল্পনাতেও আসেনা। প্রথমত ম্যাগাজিন কাভার দেখে হয়ত নিশ্চিত হওয়া যায়, যে ধ্বংসের মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে তার এক নাম্বার অস্ত্র হলো ক্লাইমেট চেইঞ্জ। কারণ এটি স্টেশনে পাওয়া চটি ম্যাগাজিনের কাভার না। এই কাভারে যা দেয়া হয় তাকে বলে প্রেডিক্টিভ প্রোগ্রামিং। অর্থাৎ কুশীলবরা যা ভবিষ্যতে করার প্লান করে তা সাংকেতিক ভাষায় (হারমেটিক সংকেত) বহু আগে প্রকাশ করে। কখনও ম্যাগাজিন, কখনও মিউজিক ভিডিও, মুভি, বড় বড় ইভেন্টে সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে এই ভবিষ্যৎ প্লান ঘটনা ঘটানোর ১০-২০ বছর বা আরো আগে প্রকাশ করা হয়। ক্লাইমেট চেইঞ্জকেও এমনই একটি অস্ত্র হিসেবে দেখানো হয় আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে।
ম্যাগাজিন হাতে দাঁড়িয়ে শিংওয়ালাদের সর্দার যেনো এগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিচ্ছে। তার ঠিক পাশেই “CLIMATE CHANGE” লেখাযুক্ত একটি যন্ত্র। এই একটি চিত্রই বুঝার জন্য যথেষ্ট যে, শিংওয়ালাদের যত অস্ত্র আছে তার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
কিন্তু ক্লাইমেট চেইঞ্জ নিয়ে ইউএন-এনজিওর সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলোতো ভালো। এগুলোকে কিভাবে মূল্যায়ন করা যায়? যে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আমরা জানি এগুলো আসলে লেবাস। প্রকৃত ঘটনা লুকিয়ে আছে এরই আড়ালে কৃত্রিম আবহাওয়া পরিবর্তন (Weather Modification – WM) প্রকল্পগুলোর ভিতর। এই ব্যানারে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি ঝড়ানো থেকে শুরু করে কৃত্রিম সূর্য আবিষ্কারের মতো প্রকল্প পর্যন্ত আছে। অসচেতনতার কারণে মেঘ ছিনতাই করা নিয়ে ইরান তুরস্কের মধ্যে আইনি লড়াই আমাদের কাছে হাস্যকর মনে হয়। কৃত্রিম ঘূর্নিঝড়, জলোচ্ছাস এমনকি ভূমিকম্প নিয়েও বহু রেফারেন্স আছে যেগুলোকে এখন পর্যন্ত কুশীলবরা কন্সপlইরেসি থিউরি নামক গোলকধাঁধায় মানুষকে বেঁধে রাখতে পেরেছে। মানুষ এগুলো বিশ্বাস করেনা। অনেকে বলে বিশ্বাস করলে ইমান থাকবেনা। তারা হয়ত খোজ নিয়ে দেখেনি যে, আমাদেরকে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য শেষ জামানায় প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে দেয়া হবে?
ক্লাইমেট চেইঞ্জ নিয়ে এনজিওগুলোর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রোগ্রামগুলো তাহলে কি? এক কথায় ধোঁকা। মানুষকে সচেতন করার নামে মূলত রাষ্ট্রীয় নীতিমালার পরিবর্তন, কার্বন ট্যাক্স বাস্তবায়ন, ওয়েদার মডিফিকেশন (WM) ও জিওইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করে এসব এনজিও। কার্বন ট্যাক্স বাস্তবায়নকে অনেকে বলেন ভালোইতো! আসলে দুষণ কমানোর জন্য ট্যাক্স দিয়ে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের নামেও আছে অন্য খেলা। ধরুন একটি কারখানা বছরে ১,০০০ টন CO₂ ছাড়ে। সরকার বলল, প্রতি টন CO₂-এর জন্য ২০ ডলার কর। তাহলে কারখানাটিকে দিতে হবে ২০,০০০ ডলার কার্বন ট্যাক্স। দূষণ কমালে কর কম দিতে হবে। আসলে দূষণ কমনো উদ্দেশ্য না। মাঝখান থেকে তেল, গ্যাসের দাম বাড়ে, দরিদ্র মানুষের ওপর চাপ বাড়ে। এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাই উদ্দেশ্য। ক্লাইমেট চেইঞ্জ নিয়ে এনজিও কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভিতর ভয় ঢুকিয়ে দেয়া যে, ক্লাইমেট চেইঞ্জ একটা বিশাল বিশাল.. সমস্যা। কুশীলবদের উদ্দেশ্য হলো পরবর্তীতে WM এর মাধ্যমে ধ্বংসলীলl চালানো হবে আর মানুষ ভাববে এসবের জন্য তো ক্লাইমেট চেইঞ্জ দায়ি! মানে আমরা নিজেরাই যে পরিবেশের ক্ষতি করেছি তার জন্যই আজ এই পরিণতি! অথচ এই মহাবিশ্বের ধারণ ক্ষমতা কখনও এতো ঠুকনো নয় যে সমুদ্রে কয়েকটা পলিথিন ফেলে পরিবেশের বিশাল বিপর্যয় করা সম্ভব। যে সমুদ্রে নাকি পরমানু পরীক্ষা চালানো হয়, কারো কোন মাথাব্যথা থাকেনা, সেখানে কয়েকটি পলিথিন পরলেই এনজিও পরিবেশবাদিরা পরিবেশ গেলো পরিবেশ গেলো বলে প্রচার শুরু করে দেই। সেলুকাস!
ক্লাইমেট চেইঞ্জই শয়তানের সবচেয়ে শক্তিশালি অস্ত্র। মানচিত্র পরিবর্তন করবে, মানুষ মারবে; আর বেঁচে যাওয়া মানুষরা ভাববে সবই প্রকৃতির খেলা!
প্রেডিক্টিভ প্রোগ্রামিং
প্রশ্ন হতে পারে এরকম কার্টুন দিয়ে কতকিছুই না বুঝানো হয়, বাঙ্গ করা হয়। এটিকে এতো সিরিয়াসলি নেয়ার কোন মানে হয় না। এসব বিশ্বাস করারও কোন মানে নাই। না। তাহলে এসব মিডিয়া সম্পর্কে আগে ধারনা থাকতে হবে। এসব কাভার ডিজাইনের ধারাবাহিক ইতিহাস এবং পিছনের রহস্য জানতে হবে। এসব প্রারম্ভিক বিষয় তুলে ধরতে গেলে লেখা লম্বা হবে ও প্রাসঙ্গিকতা হারাবে। তাই সংক্ষেপে কিছু বিষয় উল্লেখ করছি। দ্যা ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের এধরনের কাভার ডিজাইন মূলত সুদূর ভবিষ্যতের নানা দিককে ঈঙ্গিত করে তৈরি হয়। কাজটি অত্যন্ত জটিল এবং নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়। এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য প্রেডিক্টিভ প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারনা থাকা প্রয়োজন।
প্রেডিক্টিভ প্রোগ্রামিং হলো এক ধরনের পরিকল্পনা যা বাস্তবায়নের বহু আগে ডিজাইন করা হয়ে থাকে। হেরফের হয়না তা না। কিন্তু টার্গেট অত্যন্ত সুক্ষ। এই পরিকল্পনাগুলোকেই নানা পরিবেশনায় প্রকাশ করা হয়। কাজটি তাদের কাছে একটি পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণ (নর্মালাইজেশন) পক্রিয়ার অংশ এবং একই সাথে মাইন্ড কন্ট্রোল প্রোগ্রাম হিসেবে কাজ করে। এছাড়া শয়তানি পক্ষের কাজকর্ম সাধারণ মানুষকে জানানোর একটি বাধ্যবাধকতা আছে। এ বলে নিজেদের সান্তনা দেয়া যে, মানুষকে জানানো হয়েছে কিন্তু তারা গাফেল। এই জানানোর কাজটি করা হয় নানা সাংকেতিক ভাষায় (হারমেটিক সংকেত)।
- Predictive programming is not a scientific theory, but a notion developed by contrarians and conspiracists who believe that the world is run by a totalitarian government of “lizard people”, or a powerful evil agency that fakes large-scale events to manipulate people’s opinions and further increase their dominance.
- There are many mind control tactics powerful people use to manipulate us. Predictive programming is one such tactic. It is also can be a proof that something was preplanned. It can also be a way of showing strength… see we can tell the world we are going to do this and no one can stop us.
এসব প্রেডিক্টিভ প্রোগ্রামিংকে ম্যাগাজিনের কাভার, মিউজিক ভিডিও, মুভি, রেসলিং গেইম, সিম্পসন কার্টুনসহ বড় বড় ইভেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন সাংকেতিক ভাষায় প্রকাশ করা হয়। এটি তাদের কাজের একটি বৈশিষ্ট্য বলা যায়। তবে আবার এটা ধরে নেয়ার কোন কারন নাই যে, বড় বড় সব ঘটনাই তাদের সাজানো এবং প্রেডিক্টিভ প্রোগ্রামিং করা হয়। এসব প্রোগ্রামারদের অনেক উর্ধ্বে একজন আছেন যিনি পরিকল্পনাকারীদের নিয়েও উত্তম পরিকল্পনা করেন।
বাল দেবতা ও জলবায়ু পরিবর্তন
“তোমরা কি বাল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তাকে পরিত্যাগ করবে?” সূরা আস-সাফফাত (৩৭:১২৫)। আর শয়তানের দলেরা সেটাই করে যা তাদের নিষেধ করা হয়। পশ্চিমা এলিটরা বা’আল (Baal) দেবতার পূজা করে এটা নতুন কিছু না। এর নগ্ন উদাহরন ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান যেখানে প্রকাশ্যে সেই বাল দেবতাকে আলিঙ্গন করা হয়। এটা নিয়ে কোন মিডিয়া বা সুশিলকে টু শব্দ করতে দেখিনি। নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারিনি প্রথম দেখার পর। এরপর রহস্যের জট খোজা শুরু করি। যত জানার চেষ্টা করি ততই বিস্মিত হয়েছি। বলা যায় এই ইভেন্ট আমার অনেক চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সবচেয়ে অবাক হই খুব কম মানুষ (তথাতথিত সচেতন মানুষ) এসব সম্পর্কে বিন্দুপরিমান ধারনা রাখে। এমনকি আপাদমস্তক বুঝিয়ে দেয়ার পরও এ সম্পর্কে আরো জানার বা ন্যূনতম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এমন মানুষও পাইনি। বরং মনে হয়েছে আমি বোধহয় ভুল করে ভীনগ্রহের কোন কল্পকাহিনী বলে ফেললাম!

গ্লোবাল এলিটসরাই কৃত্তিমভাবে আবহাওয়া পরিবর্তন প্রকল্পগুলোর মাস্টারমাইন্ড। সহায়ক সংস্থা হিসেবে আছে সার্ন, ইউএন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামসহ গ্লোবাল এলিটস নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব সংস্থ্যাগুলো যারা একত্রে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে পৌছাতে কাজ করে যাচ্ছে। এটি হলো এজেন্ডা ২০৩০। আর ইউএন, এনজিও কর্তৃক বাস্তবায়িত জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পগুলো মূল এজেন্ডা নর্মালাইজ করার জন্য ছায়া প্রকল্প হিসেবে কাজ করে। এ মূহুর্তে সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময় এসে গেছে।
প্রাচীন সমাজে খরা, বন্যা বা ঝড়কে বাল দেবতার ইচ্ছা হিসেবে দেখা হতো।
- খরা হলে মনে করা হতো বাল রুষ্ট
- বৃষ্টি হলে মনে করা হতো বাল সন্তুষ্ট
অর্থাৎ, জলবায়ুর পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করার জন্য ধর্মীয় কাঠামো ব্যবহার করা হতো।
বাল দেবতা হলো ঝড় বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেবতা যার পূজা আবারো প্রকাশ্যে করা হচ্ছে। প্রশ্ন হতে পারে ঝড়-তুফান, খড়া, ভূমিকম্প, দাবানল আগেওতো হয়েছে। এটা নিশ্চিত যে আমরা ইতিমধ্যে নতুন একটি সময়ের ফ্রেমে ঢুকে গেছি। এখনকার দুর্যোগ দুর্ভোগের সাথে অতিতের পার্থক্য সুস্পষ্ট।
দুবাইয়ের ৭৫ বছরের রেকর্ড ব্রেক করে বন্যা। সৌদি আরবসহ মরুভূমির দেশগুলো সবুজে ছেয়ে যাচ্ছে। এশিয়ার হিট ওয়েব রেকর্ড ব্রেক। চায়না, আমেরিকাতে ঝড়-বৃষ্টি, টর্নেডোর রেকর্ড ব্রেক। ১০০/২০০ বছরের রেকর্ড ব্রেক করা এসব দুর্যোগের সাথে অতিতের পার্থক্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
পরিবেশ বিপর্যয়ের আরেকটি দিক দাবানল যার ভয়াবহ রূপ ২০২৩ সালে প্রত্যক্ষ করে বিশ্ব। গতবছর বহু অঞ্চলে এই দাবানলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে কানাডায় হয় সবচেয়ে বেশি। CAMS (Copernicus Atmosphere Monitoring Service) -এর তথ্য অনুসারে, এ বছরে বিশ্বব্যাপী দাবানলে প্রায় ২১৭০ মেগাটন কার্বন নির্গমন হয়, যার মধ্যে কানাডিয়ান দাবানল ২২% ছিল।
বৈশ্বিক উষ্ণতা, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনকেই দাবানলের একটি কারন হিসেবে বলা হয়ে থাকে।
আগস্ট ২০২৩ এ আমেরিকার হাওয়ায় দ্বীপের ভয়াবহ দাবানলের খবর আমরা জানি। ব্রিটানিকার তথ্য অনুযায়ী এখনও এর সঠিক কারন সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কাকতালীয়ভাবে ডিসেম্বরে এসে এই দ্বীপে মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ ১০০ বিলিয়ন ডলারের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যাঙ্কার তৈরির ঘোষণা দেন যেটিকে সেকরেট এ্যাপোকালিপস বা ডুমসডে বাঙ্কার বলা হচ্ছে। দাবানল প্রকৃতিগতভাবে হয় নাকি ঘটানো হয় তা অনুদঘাটিতই রয়ে যায়।
খোদ ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৫০টি দেশ ইতিমধ্যে আবহাওয়া পরিবর্তনকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করছে চায়না থেকে। এটি অফিসিয়াল তথ্য। তাহলে আমেরিকা, রাশিয়া বা অন্যান্য ইউরোপ দেশগুলো কি করছে তা সহজে অনুমেয়। ২০১২-২০১৭, ৫ বছরে চায়না ওয়েদার মডিফিকেশন প্রোগ্রামে ইনভেস্ট করে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার। আর প্রোগ্রামের ব্যানারে শুধু ক্লাউড সিডিংকে সামনে আনা হচ্ছে। আসলেই কি তাই নাকি আরো অনেক কিছু আছে যা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। এগুলো সাইন্স নাকি অকাল্ট সাইন্স? অকাল্ট সাইন্স না হলে বা‘আলের পূজা করে কেন?
জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল
জলবায়ু পরিবর্তন এবং এ সংক্রান্ত তহবিল গঠন প্রসঙ্গে স্রোতের বিপরীতে তিনটি সাক্ষাৎকার বিষয়ে নিচে উল্লেখ করব যার মাধ্যমে এই এজেন্ডা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝা যাবে এবং সত্য অনুসন্ধানে চিন্তার খোরাক জোগাবে।

আমি হয়ত আপনাদের হতাশ করতে পারি, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গ্রেটা থুনবারর্গের বক্তৃতা নিয়ে আমি সবার মত উৎসাহিত নয়। আপনারা জানেন যে, বিশ্বের বড় বড় সমস্যাগুলোতে তরুণ প্রজন্মরা এগিয়ে আসে। পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রেও এটা ঘটেছে এবং এটাকে সাধুবাদ। আমাদের উচিত তাদেরকে সহায়তা করা। কিন্তু যখন কেউ শিশু-কিশোরদের নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগায় তখন সে বিষয়টি আর প্রশংসার থাকে না, কেবল নিন্দা করা যায়। এটা খুবই জঘন্য যখন কেউ তহবিল সংগ্রহের উপায় হিসেবে এটি করে। – ভ্লাদিমির পুতিন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট
২০১৯ সালে ১৬ বছর বয়সী ক্লাইমেট আক্টিভিস্ট গ্রেটা থুনবারর্গের প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব কথা বলেন। ভিডিওটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
সবশেষ দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক কপ-২৮ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের উপর গুরুত্বারোপ করা হয় কিন্তু শেষ হয় হতাশা দিয়ে। জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো জানে যে তাদের বারোটা বাজানোর জন্য এ আয়োজন। তবে ক্ষয়ক্ষতির তহবিল গঠন করা গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে এই একটি চাকা সবসময় সচল থাকে। তা হলো তহবিল গঠন। এত তহবিল কোথায় যায়?

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আমরা যে বিপদের সম্মুখিন তার কোন বাস্তবতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে যে প্রচার প্রচারনা করা হয়েছে তা ক্রমশ জলবায়ু পরিবর্তনে নেয়া ঐক্যবন্ধ গতিকে উল্টো আঘাত করে যাচ্ছে এবং মিথ্যাকে সত্যরূপে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে কোটি কোটি ডলারের জালিয়াতির মুখে সমর্থকদের দ্বারা ভয় ভীতি প্রদানের মাধ্যমে, কল্পিত “টকিং পয়েন্ট”, অযৌক্তিক এবং সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক প্রস্তাবনার মাধ্যমে, চাকরি হারানো এবং ট্যাক্স সম্পর্কে মিথ্যা হুমকি প্রদানের মাধ্যমে। – জন কেরি, মার্কিন রাজনীতিবিদ ও ৬৮তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী
২০১২ সালে জন কেরির দেয়া বক্তব্য পড়তে ও ভিডিও দেখতে পারেন এই লিংক থেকে।
সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার গরিব দেশ গায়ানায় প্রচুর তেল পাওয়া গেছে। বিবিসি এই দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলিকে প্রশ্ন করেন, দেড়শ বিলিয়ন ডলারের তেল পোড়ালে যে দুই বিলিয়ন টন কার্বন বাতাসে ছড়াবে তার দায় কে নিবে? জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন গায়ানার চিরহরিতে জঙ্গল আছে গোটা ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের চেয়ে বড় আয়তনের যা বছরের ২.৯ গিগাটন কার্বন হজম করতে পারে। এ সময় বিবিসির সাংবাদিক বাধা দিতে চাইলে প্রেসিডেন্ট বলেন “জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আপনার লেকচার আমি শুনব না। আমার লেকচার আপনারা শুনবেন। আমরা বন বাঁচায় আর সুবিধা ভোগ করবেন আপনারা? নিজেরাতো সব কেটেকুটে ছাপ করে ফেলেছেন। পৃথিবী ধ্বংস করে ফেলেছেন। কৈ একটা টাকা দিয়েছেন আমাদের বন রক্ষার জন্য? গত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীর ৬৫ ভাগ জীব বৈচিত্র ধ্বংস করা হয়েছে। আমাদের জীব বৈচিত্র ঠিক রেখেছি। কোন মূল্য দিয়েছেন তার? আমরা যদি আমাদের সমস্ত তেল উত্তোলন করি তাতেও কার্বন নির্সরন নেট জিরো থাকবে। কিন্তু উন্নত বিশ্ব কি করেছে? এ সময় বিবিসির সাংবাদিক আবারও বাধা দিতে চাইলে প্রেসিডেন্ট বলেন আগে আমি কথা শেষ করব তারপর প্রশ্ন। তিনি বলেন, তোমরা ভন্ডামি করছ, তোমরা একটি গোষ্ঠির হয়ে কাজ করছ। এই গোষ্ঠি পরিবেশ ধ্বংস করছে। তোমরা সেই গোষ্ঠির সিস্টেমেরই অংশ। তোমরা সবাই ভন্ড।
জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলি বিবিসির সাংবাদিককে বলেন, তোমরা ভন্ডামি করছ, তোমরা একটি গোষ্ঠির হয়ে কাজ করছ। এই গোষ্ঠি পরিবেশ ধ্বংস করছে। তোমরা সেই গোষ্ঠির সিস্টেমেরই অংশ। তোমরা সবাই ভন্ড।
ওয়েদার মডিফিকেশন ও কন্সপাইরেসি থিওরি
ওয়েদার মডিফিকেশন হলো মানুষের তৈরি প্রযুক্তির মাধ্যমে আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তনের চেষ্টা। এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো ক্লাউড সিডিং (Cloud Seeding) প্রযুক্তি যার মাধ্যমে কৃত্তিম উপায়ে বৃষ্টিপাত ঘটানো হচ্ছে, এটি এখন প্রমাণিত সত্য। এটিই ওয়েদার মডিফিকেশন প্রোগ্রামের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। অতএব ওয়েদার মডিফিকেশন কোন কন্সপাইরেসি থিওরি না। এই প্রোগ্রামের আওতায় আরো অনেক কিছু আছে যা আলোচনার বাহিরে থাকে। তা না হলে ওয়েদার মডিফিকেশন নিয়ে এত গবেষণা ও বিনিয়োগ হতো না। হার্প প্রযুক্তি যার মাধ্যমে কৃত্তিমভাবে সুনামি এবং ভূমিকম্প ঘটানো যায় বলে মনে করা হয়। এই সবই কি কন্সপাইরেসি থিউরি? নাকি সত্যতা আছে? নিচের ভিডিওটি দেখুন। সিম্পসন কার্টুন কারা বানায় কেন বানায় তা এখন ওপেন সিক্রেট!
প্রাচীন বাল দেবতার সাথে জলবায়ু পরিবর্তন, ওয়েদার মডিফিকেশন প্রোগ্রাম এবং CERN (European Council for Nuclear Research) -এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক আছে বলে ষড়যন্ত্র তত্ত্ববীদরা মনে করেন।
ষড়যন্ত্র তত্ত্ববীদদের মতে আধুনিক ওয়েদার মডিফিকেশন প্রকল্প কেবল ক্লাউড সিডিংয়ে সীমাবদ্ধ নেই। তারা দাবি করে:
- আধুনিক আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প “প্রাচীন বাল দেবতার শক্তির পুনর্জাগরণ”।
- গোপন এলিটসরা প্রাচীন দেবতার প্রতীক ব্যবহার করে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।
- HAARP (High-frequency Active Auroral Research Program) দিয়ে ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- বিমান থেকে “কেমট্রেইল” ছড়িয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পকে আধুনিক যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কেন এসব কন্সপাইরেসি থিউরি এমন প্রশ্নের উত্তরে পাওয়া যায়, মানুষ ঐতিহাসিকভাবে আবহাওয়ার মতো অনিয়ন্ত্রিত শক্তিকে দেবতা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির সাথে যুক্ত করে। আজ যখন প্রযুক্তি দিয়ে আবহাওয়ায় কিছু হস্তক্ষেপ করা সম্ভব, তখন অনেকে প্রাচীন মিথ ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে প্রতীকী সংযোগ খোঁজেন।
কিন্তু একের পর এক যেভাবে মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে তাতে কন্সপাইরেসি থিউরি আখ্যা দিয়ে সত্য বেশিদিন চেপে রাখা যাবে না। কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাই এমন ডায়ালগও কাজে আসবে না। জ্বীন জাতির বৈজ্ঞানিক কোন প্রমাণ নেই অথবা থাকলেও তা প্রকাশ করেনি। এরকম অসংখ্য সত্য আছে যার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কমনওয়েলথ গেমসের প্রতীকী প্রদর্শনীকে কি দিয়ে আড়াল করবে? সামনে হয়ত এমন আরো উদাহরণ হাজির হবে যেখানে দিনের আলোর মতো অকাল্ট সাইন্স চর্চার প্রমাণ পাওয়া যাবে।
আজকে মেঘ চুরির অভিযোগে তেহরান তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কাল ভূমিকম্পের জন্য পরশু সুনামির জন্যও কি এরকম অভিযোগ আসবে? আগামীতে কোন দেশে বৃষ্টি হবে কোন দেশে খড়া হবে, দুর্ভিক্ষ হবে এসব কিছু কি কৃত্তিমভাবে নিয়ন্ত্রীত হবে?
ওয়েদার মেইড টু অর্ডার
১৯৫৪ সালে “ওয়েদার মেইড টু অর্ডার (Weather Made to Order) নামে একটি বইয়ে ওয়েদার মডিফিকেশন প্রোগ্রাম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পাওয়া যায়। সে সময়েই বলা হয় “Within 40 years, a top expert says, we may break up tornadoes and produce rain or snow virtually at will” অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী ১৯৯০ সালের পর মানুষ তার ইচ্ছামত টর্নেডো, বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত ঘটাতে পারবে বলে একজন শীর্ষ মার্কিন বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছিলেন। একই রেফারেন্স অনুযায়ী ১৯৫৩ সালে আমেরিকার টেক্সাসে ওয়েদার মডিফিকেশন প্রোগ্রামের সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করা হয়।
আবহাওয়াকে যুদ্ধের একটি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যাবে, কৃত্তিমভাবে ঝড়-তুফান তৈরির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কৌশলগত পরিস্থিতি বদলে তাদের ধ্বংস করা যাবে। কৃত্তিম বৃষ্টির মাধ্যমে শত্রুকে প্লাবিত করা ও কোন সামরিক প্রতিরোধকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে। এমন কি কৃত্তিম উপায়ে বৃষ্টি আটকানোর মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটানোও সম্ভব হবে বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়।

বইটির লেখক আমেরিকান নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন হাওয়ার্ড টি. অরভাইল ছিলেন তৎকালিন প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ওয়েদার কন্ট্রোল প্রোগ্রামের উপদেষ্টা কমিটির চেয়্যারম্যান। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও একজন আবহাওয়া উপদেষ্টা এবং ইউএস ফ্লিটের কমান্ডার ইন চিফ এবং নৌ অভিযানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বইটি প্রকাশের ৫৮ বছর পর ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্যা ইকনোমিস্টের কাভার ডিজাইনে পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় যে ক্লাইমেট চেইঞ্জ একটি অন্যতম ডেমোনিক এজেন্ডা যার অন্তরালে কৃত্তিমভাবে আবহাওয়া পরিবর্তনের মাধ্যমে মহা সংকট তৈরি করে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
ওয়েদার মডিফিকেশন ও জলবায়ু পরিবর্তন
আবহাওয়া কৃত্তিম উপায়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে বললে মোটাদাগে সম্ভবত তিন শ্রেণীর মানুষ পাওয়া যাবে। একদল উড়ে এসে পাগল উপাধি দিবে। কিছু ধারনা রাখে কিন্তু মানে না এমন মানুষরা বলবে কন্সপাইরেসি থিওরি। আর এক শ্রেণীর মুমিন ভাইয়েরা বলবে ইমান নষ্ট হয়ে যাবে কিন্তু! জানেন এসব নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
আমরা আসলে বেখবর। দেশে দেশে গোপনে প্রতিযোগীতা চলছে এই সেক্টরে বিনিয়োগ করা নিয়ে। ২০২২ সালে প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামাদি বিক্রির মার্কেট ছিল ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২৩-২৯ সাল প্রতি বছরে ৫.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
হাদিস বলছে শেষ জামানায় প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শেষ জামানা! এক শ্রেণীর মানুষ বলে বসতে পারে শেষ জামানায় আসছি এসব আজগুবি কথা। সম্ভবত এই শ্রেণীর মানুষদের ধারনা আল্লাহপাক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে শেষ জামানার দিনক্ষণ ঘোষণা দিবেন। যাহোক, গোপনে প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামাদি বিক্রির যে বিশাল মার্কেট তৈরি হয়ে গেছে এবং অন্তত ৫০টি দেশ এরই মধ্যে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এটি খোদ ইউএন এর অফিসিয়াল খবর।
চীন ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করে ওয়েদার মডিফিকেশন প্রোগ্রামে। পরবর্তীতে এই বিনিয়োগ আরো বাড়ানো হয় এবং তারা আশা করছে ২০২৫ সালের মধ্যে একটি উন্নত ওয়েদার মডিফিকেশন সিস্টেম পাবে। আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোও বহু বছর ধরে এর পিছনে ইনভেস্ট করে আসছে। তাহলে বিষয়টা কি দাড়ালো? ইন্ডিয়া যদি চায়নার সাথে এ প্রতিযোগিতায় না পারে তাহলে মৌসুমী বৃষ্টিসহ নানা কৃত্তিম জলবায়ু সংকটের কবলে পরবে। ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। অথবা চায়না যদি আমেরিকার সাথে আবহাওয়া প্রযুক্তিতে পেরে না ওঠে তাহলে বন্যা বা হিট ওয়েবে নাস্তানাবুদ করা হতে পারে। ইউরোপের কোন দেশ কথামত না চললে টর্নেডো দিয়ে ভাসিয়ে দেয়া হতে পারে। তার মানে ওয়েদার মডিফিকেশন প্রোগ্রাম কি সংঘাতের নতুন রসদ?
এছাড়া সামনে পরিবেশ বিপর্যয়ের আরো একটি বড় উদ্বেগের কারন হতে যাচ্ছে চীনের তৈরি করা কৃত্তিম সূর্য। একদিকে এসব অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কৃত্তিমভাবে জলবায়ু পরিবর্তন করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে, অন্যদিকে তারাই আবার তহবিল গঠন করে এনজিওর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে! ইউরোপ থেকে গ্রীক সেনাপতি সেলুকাস (Seleucus) ভারত দখলে এসে এখানকার মানুষের গঠন, আচরন দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল তা সম্পর্কে দিজেন্দ্রলাল রায় লিখেছেন “সত্যিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!” শুধু ক্লাইমেট চেইঞ্জ না, মানবতার নামে এমন অসংখ্য এজেন্ডার আড়ালের এজেন্ডা দেখে বিষ্মিত হই। অথচ মানুষ নির্বিকার। সত্যিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই পৃথিবী!
True Eyes ইউটিউভ চ্যানেলের শাফিন ইমরানের তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমৃদ্ধ ভিডিওগুলো নিঃসন্দেহে সত্যের অনুসন্ধানে সাহায্য করবে।

ভিডিওতে স্পষ্ট বুঝানো হয়েছে যে, সাধারন মানুষের দ্বারা যে পরিবেশগত পরিবর্তন হচ্ছে তা খুবই নগণ্য। বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অসুস্থ্য প্রতিযোগীতার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে। অন্যদিকে তহবিল বিলিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চূড়ান্ত অসুস্থ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তন দ্যা ক্লাব অফ রোমের তৈরি করা একটি কৃত্তিম সংকট কিনা তা বুঝার জন্য এ ভিডিওটি সাহায্য করবে।
সৃষ্টির পর থেকে প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে আসছে। প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প হয়েছে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়েছে, গতিপথ বদলে গেছে, ভূপৃষ্টের প্লেট পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের নামে ইতিহাসে কখনও এত কর্মসূচী নেয়া হয়নি। এর নামে দেশে দেশে এত আইন করা হয়নি। এত ফান্ডের ছড়াছড়ি হয়নি। এসব কোনকছুই প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়না যদি না কার্যকর কিছু হতো। কিন্তু সেটি হয়নি। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। বরং সাথে যুক্ত হচ্ছে কৃত্তিম সংকট। অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না যদি তুরস্ক ২০২৩ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পটি কৃত্তিম সন্দেহে তদন্ত কমিটি গঠন করে। অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না যদি সামনের দিনগুলোতে বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃত্তিমভাবে ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের উপর দায় চাপানো হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট গতিতে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এটিকে ঘিরে যে কর্মসূচী ও তহবিল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সেখানে কতটুকু ধোকাবাজি আছে তা হয়ত পরবর্তী কোন এক প্রজন্ম খুজে বের করবে। সত্য, মিথ্যা, কৃত্তিম সংকট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধোকা ইত্যাদি যেটাই হোক, এর চূড়ান্ত পর্যায় কি হতে পারে? যন্ত্রটি যার হাতের কাছে সেই দুই শিংওয়ালা পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে। এবং কখন কোথায় বৃষ্টি দিতে হবে, কোথায় খড়া, কোথায় সুনামি সেই দেনদরবার তার সাথে সারতে হবে। সেটা না করলেই কৃত্তিম সংকট, মানে জলবায়ু পরিবর্তন।
“দাজ্জাল এক জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান আনয়নের আহবান জানাবে। এতে তারা ঈমান আনবে। দাজ্জাল তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করার জন্য আকাশকে আদেশ দিবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে, যমিন ফসল উৎপন্ন করবে এবং তাদের পশুপাল ও চতুষ্পদ জন্তুগুলো অধিক মোটা-তাজা হবে এবং পূর্বের তুলনায় বেশী দুধ প্রদান করবে। অতঃপর অন্য একটি জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান আনয়নের আহবান জানাবে। লোকেরা তার কথা প্রত্যাখ্যান করবে। দাজ্জাল তাদের নিকট থেকে ব্যর্থ হয়ে ফেরত আসবে। এতে তারা চরম অভাবে পড়বে। তাদের ক্ষেত-খামারে চরম ফসলহানি দেখা দিবে। দাজ্জাল পরিত্যক্ত ভূমিকে তার নিচে লুকায়িত গুপ্তধন বের করতে বলবে। গুপ্তধনগুলো বের হয়ে মৌমাছির দলের ন্যায় তার পিছে পিছে চলতে থাকবে।’’ – সহিহ মুসলিম
হাইব্রিড ও জিএমও ফসলই কি দাজ্জালের শস্যভান্ডার? হাইব্রিড ও জিএমও (Genetically Modified Organism) কৃষি পদ্ধতিতে অধিক ফসল উৎপন্ন হচ্ছে। ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে বৃষ্টি বর্ষণ করানো হচ্ছে। ভ্যাক্সিন দিয়ে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী দুধ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের মতো দেশে যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগ যেনো লেগেই আছে। এসব কিছু কি কোন প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসার জন্ম দেয়না? দাজ্জাল যেমন সর্বশ্রেষ্ঠ ধোকাবাজ, এসব খাবারও তেমনি ধোকা। জলবায়ু পরিবর্তনও তেমনি একটি ধোকা।
একটি বাস্তব ঘটনা বলে শেষ করব। ২০০৯ কি ১০ সালের ঘটনা। সাংবাদিকদের নিয়ে পাবনার চর এলাকা বেড়া উপজেলায় গিয়েছিলাম। সাথে দেশের কিছু বরেণ্য ব্যক্তিরা ছিল। একজন স্থানীয় এনজিও প্রধানের ক্লাইমেট চেইঞ্জ বিষয়ক সাক্ষাৎকার নেয়া হলো। টিভি ক্যামেরার সামনে ভয়াবহতা ও হতাশার কথা শোনালেন, অরো বেশি ফান্ডিং ও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন ইত্যাদি। ক্যামেরা অফ করা হলে মাইক্রোফোন সাংবাদিকের হাতে ধরিয়েই বলে বসলেন “কিসের ক্লাইমেট চেঞ্জ”! কথাটা এখনও মনে পরে। আমরা আসলে সত্য জানি। কিন্তু ফান্ডিং ও নানা ফন্দিফিকিরের কাছে বিক্রি হয়ে গেছি।





GIPHY App Key not set. Please check settings