শিরোনামে গাজওয়াতুল হিন্দ উল্লেখ করলেও যা নিয়ে আলোচনা হবে তার নাম আসলে জানা নেই। কিছু ঘটনাপ্রবাহের ইন্টারপ্রিটেশনের উপর ভিত্তি করে এই লেখা। সেটি যদি গাজওয়াতুল হিন্দের সাথে মিলে যায় তবে তাই। কারো কাছে এই লেখা অতিমাত্রায় কাল্পনিক, বানোয়াট, অনুমাননির্ভর মনে হতে পারে। তবে বরাবরের মতো সুনির্দিষ্ট কিছু ভিত্তির উপর লেখাটি তৈরি যার মধ্যে অন্যতম হলো ইতিহাস, ভূরাজনৈতিক দর্শন, প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি, এস্কেটোলজি, স্পিরিচুয়াল ইন্টারপ্রিটেশন এবং এসবকিছুর সাথে চলমান ঘটনাপ্রবাহের সংমিশ্রন। আশ্বস্ত করতে পারি যে এখানে নিছক অনুমাননির্ভর কোন কিছু নেই। তবে এমন কিছু বিষয় আছে যা একান্ত উপলব্ধি। তাই অনুরোধ থাকবে সেগুলো সরাসরি বিশ্বাস না করে অন্তদৃষ্টি দিয়ে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে নিবেন। যদি সত্য হয় তবে মনে করবেন এটি কোন জ্যোতিষবিদ্যার চর্চা নয় বা অনুমাননির্ভর কথা নয় বরং উপরের সবকিছুর সংমিশ্রন।
মূল প্রসঙ্গ তুলে ধরতে এখানে ডার্ক ফোর্স এবং উল্কাপাতের মতো বিষয় উল্লেখ করা হবে যার সাথে ভারত উপমহাদেশের যুদ্ধ ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত।
ডার্ক ফোর্স
ডার্ক ফোর্স বলতে সাধারণত এমন এক ধরনের নেতিবাচক শক্তিকে বোঝানো হয় যা মানুষের চেতনা, মানসিক অবস্থা, বা আত্মার উপর প্রভাব ফেলে। ধর্মগ্রন্থ, মিস্টিসিজম এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক দর্শনে এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়। বিজ্ঞানের মতে আমাদের চারপাশে যাকিছু দেখা যায় তা মাত্র ১০℅ অথবা আরো কম। অর্থাৎ চোখের সামনে চেয়ার-টেবিল, কাঁথা-বালিশ, দরজা, জানালা ইত্যাদি যা কিছু দেখা যায় তা মাত্র ১০%। আর বাকি ৯০℅ দেখা যায়না, মানে বহু অদৃশ্য শক্তি আমাদের চারপাশে সবসময় ঘুরে বেড়ায় কিন্তু আমরা তা দেখতে পাইনা। যা দেখা যায়না তা এ্যান্টি ম্যাটার। এর মধ্যে থাকতে পারে ডার্ক ফোর্সের কার্যক্রম। এটিকে ডার্ক এনার্জি বা ডার্ক ম্যাটারও বলা হয়। ডার্ক ফোর্স বা অন্ধকার শক্তির সাথে যুদ্ধের গভীর সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে শেষ জামানার যুদ্ধে ডার্ক ফোর্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডার্ক এনার্জির চর্চা কারা করে চ্যাটজিপিটিকে এমন প্রশ্ন করা হলে উত্তরে NASA, CERN (European Organization for Nuclear Research), ESA (European Space Agency) এর মতো সংস্থাগুলোর নাম পাওয়া যায়। এছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞানী, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, কসমোলজিস্ট এবং বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ডার্ক এনার্জির চর্চা করে বলেও উল্লেখ করে চ্যাটজিপিটি।
বিজ্ঞানীরা ডার্ক এনার্জির আভিধানিক সংজ্ঞাকে ভিন্নভাবে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করে যা প্রকৃত বিষয়ের সাথে মিলে না। এসব বিজ্ঞানীরা বলছে ডার্ক এনার্জি হলো এক রহস্যময় শক্তি যা মহাবিশ্বকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।
আসলে শয়তানের পূজারি একটি শ্রেণী তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই শক্তিকে ব্যবহার করে। এই শক্তির চর্চাকারী মানুষ এবং জ্বীন জাতি মিলে সম্মিলিত বাহিনী হলো ডার্ক ফোর্স। যুদ্ধক্ষেত্রে ডার্ক ফোর্সের ভূমিকা অতীতেও ছিল। বর্তমানে এই শক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের কারণে প্রয়োগও অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ভারত উপমহাদেশের সম্ভাব্য চূড়ান্ত রূপ ধারণ করতে যাওয়া যুদ্ধের সূচনা সুনির্দিষ্ট ডার্ক ফোর্সের আক্রমণের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
এই যুদ্ধে সব পরাশক্তির অংশগ্রহণ থাকবে যার মধ্যে আগে থেকেই চীনের শক্ত অবস্থান ছিল। রাশিয়া ধীর পায়ে এগিয়ে আসে। কিন্তু মূল যে শক্তির আগমনে আনুষ্ঠানিক সূচনার কথা জোরদিয়ে উল্লেখ করি সেটি হয় ২০২৪ সালে। ভারত বা পাকিস্তান নয়, এস্কেটোলজিক্যাল বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত যে পক্ষের দ্বারা বড় যুদ্ধ সংঘঠিত হওয়ার কথা ঠিক সেই শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হয়।
ডার্ক ফোর্সের আনুষ্ঠানিক আগমনের আলামত সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নেয়ার চেষ্টা করা যাক।
➥ এমন কিছু দুর্ঘটনা বা অমানবিক ঘটনা ঘটতে দেখা যা স্বাভাবিক সেন্স দিয়ে মেনে নেয়া প্রায় অসম্ভব। এমন কিছু দুর্ভোগ, দুর্যোগ যা হওয়ার কথা ছিল না। অস্বাভাবিক মনে হলেও সেটি হচ্ছে এবং হতে থাকবে।
➥ অতিপ্রাকৃত ঘটনা। অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন খুব কম মানুষ হয়ত এগুলো অনুধাবন করবে। কিন্তু এমন ঘটনা ঘন ঘন ঘটতে থাকবে।
➥ এই অঞ্চলে চূড়ান্ত লক্ষ্য ডিপপুলেশন, সে লক্ষ্যে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে দুর্যোগ, দুর্ভোগ, মহামারি, সংঘাত ইত্যাদির পিছনে মনে হতে পারে কোন অদৃশ্যের হাত আছে। মনে হবে এগুলোতো হওয়ার কথা না কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন হয়ে যাচ্ছে!
➥ পুরোটাই ধোঁকা বা মিথ্যা হলেও ভালো ও মন্দ, সত্য ও মিথ্যার গোলকধাঁধা তৈরি করা হবে যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। জ্ঞানী-গুণী, পণ্ডিত, বুজুর্গ, আলেম থেকে শুরু করে বিশ্ব বরেণ্য দা’য়ীরাও বিভ্রান্ত হতে পারে। কারণ যে ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করা হবে তা প্রচলিত পান্ডিত্য দিয়ে অনুধাবন করা প্রায় অসম্ভব।
➥ বড় কোন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটলে প্রতিক, দিন-তারিখ এবং সংখ্যা খেয়াল রাখবেন। স্যাটানিক রিচুয়ালকে সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব দিয়ে মিলানো হয়। মনে হবে যে এটাতো নিছকই দুর্ঘটনা। কিন্তু হতে পারে এর পিছনে ডার্ক ফোর্সের হাত আছে। ৩, ৬, ৯, ১৩, ১৮, ৩৬ ইত্যাদি সংখ্যা এবং এগুলোর যোগফল ও ভগ্নাংশ বিশেষ সংখ্যার মধ্যে পরে। ২৪ -এর ডার্ক ফোর্সের আনুষ্ঠানিক আক্রমণকেও এই সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে।
➥ ট্রিপল সিক্স (৬৬৬) সংখ্যা দৃশ্যমান হতে দেখা যাবে। সংবাদপত্র, নাটক, মিউজিক ভিডিওসহ বিভিন্ন ইভেন্ট এবং তাদের পরিকল্পিত কার্যক্রমে সরাসরি অথবা সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে এই সংখ্যা প্রকাশিত হবে। এখানে কিছু সূক্ষ্ম ধোঁকার প্রয়োগ হয়। যেহেতু মানুষের মাঝে ট্রিপল সিক্সের ব্যাপারে ভীতি আছে তাই রূপক অর্থে বা ভিন্নভাবে এর প্রয়োগ হয়। সংখ্যাকে উল্টে দেয়া হয়, যোগফলের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, নানারকম প্রতিকের ব্যবহার হয়, ট্রিপল জিরো ব্যবহার হয় ইত্যাদি। ট্রিপল জিরোকে আঙ্গুল দিয়ে ট্রিপল সিক্স হিসেবে দেখানো হয়। মানুষ ভাববে ট্রিপল জিরো আসলে সেটি ট্রিপল সিক্স। ধোঁকা। ডিপফেক।
➥ ব্লাক ম্যাজিকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
➥ ডার্ক ফোর্সের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো এলজিবিটিকিউ। কারণ তারা জানে স্পিরিচুয়াল শক্তিকে নষ্ট করতে এর চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র আর হয়না এবং এর মাঝে ধ্বংস নিহিত। তারা মনে করে এই ধ্বংসের পর কল্পিত নতুন বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। যদিও তা ভুল। এতদিন বিশেষ করে এনজিওগুলোকে ফান্ড দিয়ে ধীর গতিতে এলজিবিটিকিউ কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়া হলেও এখন চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পালা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটিকে আটকানো অনেক কঠিন। যারা এর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেছেন তারাও এই সিস্টেমের অংশ। অর্থাৎ পক্ষ ও বিপক্ষ উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অনেক বড় শক্তি এই মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সাথে অদৃশ্য অন্ধকার শক্তি।
এই শক্তির সাথে ভারত উপমহাদেশের চূড়ান্ত যুদ্ধ ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত যেই শক্তি দ্বারা ইতিমধ্যে আমরা আক্রান্ত হয়েছি। এটি যদি গাজওয়াতুল হিন্দ হয় তবে তাই।
গাজওয়াতুল হিন্দ
মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে খুব সংক্ষেপে গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে প্রারম্ভিক কয়েকটি বিষয় লেখার ধারাবাহিকতায় উল্লেখ না করলে নয়। গাজওয়াতুল হিন্দ হলো মুশরিকদের সাথে মুমিন, মজলুমদের সাথে শোষক, আলোর সাথে অন্ধকার, হকের সাথে বাতিলের যুদ্ধ। এখানে গাজওয়া অর্থ যুদ্ধ এবং হিন্দ বলতে আরব বণিকরা সিন্ধু নদকে বুঝাতেন। অর্থাৎ সিন্ধু নদের অঞ্চলে যে যুদ্ধ সংঘঠিত হবে সেটিই গাজওয়াতুল হিন্দ। এক কথায় শেষ জামানায় ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হলো গাজওয়াতুল হিন্দ।
এই যুদ্ধে ধুতি পরা অনেকে যেমন হকের দলে যুক্ত হতে পারে আবার নামধারী মুসলমানদের অনেকে বাতিলের কাতারে যাবে। এটি এমনই জটিল সমীকরণ হতে পারে যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে নেতৃস্থানীয় মুসলমানদের বেশিরভাগই মুশরিকদের দলভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং কে হক কে বাতিলের দলে তা সহজে চিহ্নিত করা যাবে না। কারণ মুশরিকদের চিহ্নিত করা সহজ হলেও মুসলমান ছদ্মবেশীদের চিহ্নিত করা অনেক কঠিন। অবস্থাদৃষ্টে এমনটাই মনে হচ্ছে যে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুসলিম পাপেট এবং তাদের অন্ধ অনুসারীরা অনেক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এই যুদ্ধে। আপাতদৃষ্টিতে শুরুর দিকে এটি একটি সাজানো যুদ্ধ যেখানে পক্ষ বিপক্ষ উভয়ই একই শ্রেণী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যাদের উদ্দেশ্য হলো ডিপপুলেশন এবং নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার বাস্তবায়ন করা। কিন্তু এস্কেটোলজিক্যাল বিশ্লেষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে এই লড়ায়ই স্কেল আপ হতে হতে একটা পর্যায়ে মুশরিক ও মুমিন, আলো ও অন্ধকারের লড়াইয়ে রূপ নিবে। এটিই গাজওয়াতুল হিন্দ।
গাজওয়াতুল হিন্দ কি শুরু হয়ে গেছে?
এই সময়ের বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন- গাজওয়াতুল হিন্দ কি শুরু হয়ে গেছে? প্রথমত পবিত্র কোরআন, হাদিস, বাইবেল, তাওরাতে উল্লেখিত যুদ্ধের দিনক্ষণ কখনও ঘোষণা করে শুরু হবে না বা সংবাদ সম্মেলন করে কেউ দিন তারিখ ঘোষণা করবে না। এগুলো সংশ্লিষ্ট গ্রন্থ পর্যালোচনা করে সিন্ধান্তে আসার বিষয়। যেমন মালহামা বা আর্মাগেডন কখন শুরু হয়েছে বা হবে তা ধর্মীয় গ্রন্থ পর্যালোচনা করে সিন্ধান্তে আসার বিষয়। গাজওয়াতুল হিন্দের বেলায়ও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে চলা দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের মতো ঘটনাগুলোকে গাজওয়াতুল হিন্দের শুরু হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ইতিমধ্যে। কিন্তু এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা ইসলামী উৎস নেই যারা নিশ্চিতভাবে স্বীকৃতি দেয় যে গাজওয়াতুল হিন্দ শুরু হয়ে গেছে। আবার সিন্ধান্তে পৌছাতে পারলেও তা কখনও স্বীকৃতি পাবে না এটাই স্বাভাবিক। যুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ ধারন করলে তখন মানুষ বুঝতে পারবে। তার আগে কোনটা মালহামা কোনটা গাজওয়াতুল হিন্দ তার কোন চূড়ান্ত সিন্ধান্ত আসবে না। এখানে নিজস্ব কিছু পর্যালোচনা শেয়ার করব, যে যেভাবে খুশি গ্রহণ/বর্জন করতে পারে।
বিশ্ব একটি সুপরিকল্পিত মহাযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট একটি টাইমলাইনও হয়ত চূড়ান্ত করা আছে যা সম্পর্কে আমরা জানিনা। তবে সংশ্লিষ্টরা বুঝে গেছে যে এটি আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। গাজওয়াতুল হিন্দ বা ভারত উপমহাদেশের চূড়ান্ত যুদ্ধের সাথে সারা বিশ্বের যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সাথে এই যুদ্ধ একই সুতোয় গাঁথা। এই লেখায় সংঘাতের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে উল্লেখ আছে।
অন্যান্য অঞ্চলের মতো ভারত উপমহাদেশেও তিন পরাশক্তি আমেরিকা, চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি যেখানে আমেরিকা ও চীনের সাথে ব্যতিক্রম কেবল রাশিয়া। রাশিয়া পায়ে হেটে এগিয়ে যাচ্ছে আরেক পরাশক্তির দিকে। একটি মহাযুদ্ধের দিকে। সেখানে চীন ও আমেরিকা তাদের বিশাল বাহিনী নিয়ে তীব্র গতিতে ছুটে আসে। একটি মহাযুদ্ধের দিকে। এটি স্পিরিচুয়াল উপলব্ধি যেটিকে অনেকভাবে ব্যাখ্যা দেয়া যায়। হয়ত এই গতির মধ্যেও জয় পরাজয়ের হিসাব নিহিত আছে। যত গতি তত বেশি ক্ষতি! এই লেখায় বিষয়টি উল্লেখ করার কারন হলো দ্রুতগতির বিশাল একটি বাহিনী দ্বারা আমরা আক্রান্ত হয়েছি জানি গত ৩/৪ আগষ্ট ২০২৪ সাল। তারা সফলভাবে প্রাথমিক মিশন সম্পন্ন করে সেলিব্রেশন করে ৯ আগষ্ট। সেসময় ফেসবুকে এটি নিয়ে একটি লেখাও শেয়ার করি। যারা নিয়মিত লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন তাদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না। কাজেই আগে থেকেই চলতে থাকা এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষকে গাজওয়াতুল হিন্দের অনানুষ্ঠানিক সূচনা কেউ বলতে পারে। কিন্তু যে পক্ষের কলকাঠিতে এটি হওয়ার কথা ঠিক সে পক্ষের দ্বারা আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এই সময়। এটি শুধু বাংলাদেশ নয় বরং এর সাথে ভারত উপমহাদেশ চূড়ান্তভাবে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জড়িত। এভাবেও বলা যায় শুরুটা বাংলাদেশকে দিয়ে হলেও টার্গেট মূলত গোটা এশিয়া। শুরুতে দ্বিধাদ্বন্দ থাকলেও এখন পুরো ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। প্রচলিত পান্ডিত্য বা বিজ্ঞান দ্বারা এর ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করে লাভ হবে না। আবারো দেড় বছর ধরে চালানো সেই পুরনো রেকর্ড – “ফিলিস্তিনের পরবর্তী ময়দান হবে এশিয়া। এটি বাংলাদেশ থেকে শুরু হতে পারে অথবা যেখান থেকেই শুরু হোক বাংলাদেশ আক্রান্ত হবে।” এই ভূখন্ড ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রান্ত হয়ে গেছে। এটিই যদি গাজওয়াতুল হিন্দ হয় তবে তাই।
একটি সাধারণ প্রশ্ন – এশিয়ায় জিইয়ে রাখা সব অস্থিরতা কিভাবে একযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো? চীন, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মায়ানমার এবং বাংলাদেশে চলমান এসব উত্তেজনা কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে? ভূরাজনীতি সম্পর্কে ন্যূনতম খবর রাখা যেকারো পক্ষে বলে দেয়া সম্ভব যে, চূড়ান্ত সংঘাতে না জড়ানো পর্যন্ত এর সমাপ্তি ঘটার সম্ভাবনা আপাত আর নেই। এই সংঘাতই যদি গাজওয়াতুল হিন্দ হয় তবে তাই।
এই অঞ্চলের কিছু নির্বাচিত মুশরিক ও মুসলমানদের ব্যবহার করা হলেও পর্দার আড়ালে মূল নকশাকারী ভিন্ন যারা দূর থেকে সবকিছুর তদারকী করে যাচ্ছে। এই সংঘাত কোনভাবেই ভারত-পাকিস্তানের নকশা নয়। বরং এই অঞ্চলের নিরিহ মানুষদের টার্গেট করা হয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচিত ও বিশেষ প্রশিক্ষিত ব্যক্তি, আঞ্চলিক বাহিনী এবং গ্রুপগুলোকে। ধাপে ধাপে একটার পর একটা সুপরিকল্পিত ঘটনার মাধ্যমে সংঘাতকে স্কেল আপ করা হচ্ছে আরো হবে। কখনো মায়ানমার-বাংলাদেশ, কখনো ভারত-বাংলাদেশ, ভারত-পাকিস্তান, আফগানিস্থান-পাকিস্তান, ভারত-চীন, কখনো চীন-আমেরিকা। কখনও দেশের অভ্যন্তরে। কখনও সীমান্তে। এগুলোই স্কেল আপ হতে হতে চূড়ান্ত পর্বে পৌছাবে। এটিই যদি গাজওয়াতুল হিন্দ হয় তবে তাই। নাম যেটাই হোক, এটি প্রক্সি ওয়্যার টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ। এরপর উল্কাপাত।
উল্কাপাত
মাত্র কিছুদিন আগের খবর। বিশ্ব মিডিয়াতে এশিয়ায় একটি উল্কাপাতের খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়। ২০৩২ সালের ডিসেম্বরে এটি পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষের ব্যাপারে বলা হচ্ছে। কেউ খেয়াল করলে জানবেন যে একটি উল্কাপাতের বিষয় আমার লেখায় উল্লেখ ছিল। যার মানে খুজে পাই ইনসাফ বা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়া। সেটি যদি কৃত্তিমভাবে ঘটানো হয়ে থাকে তবুও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়ার আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। খবরে বলা হচ্ছে হিরোশিমার চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি ধ্বংস ক্ষমতা আছে এই গ্রহাণুর। বিজ্ঞানিরা এটির নাম দিয়েছেন সিটি কিলার। পৃথিবীর সাথে যার ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা আছে মাত্র ২ শতাংশ। তবে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মতে যত সময় যাচ্ছে ততই এই গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল সংঘর্ষের এই সম্ভাবনা ১ শতাংশ কিন্তু মাসখানেকের মধ্যে এই সম্ভাবনা বেড়ে ২ শতাংশ হয়। ২০২৮ সালে গ্রহাণুটি পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ার কথা। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, সুদান, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর এবং কলম্বিয়া। প্রসঙ্গত এই ধরনের গ্রহাণু পৃথিবীতে অতিতেও আছড়ে পড়েছে এবং ভূমণ্ডলের পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে। আবার সম্ভাবনার বহু খবর প্রায় প্রকাশিত হলেও সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে দেখা মেলেনা। কিন্তু এবারের খবরটিকে আমলে নেয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং আমার কাছে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সময় বিবেচনায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাব অফ রোমের গ্রেটার ম্যাপ বাস্তবায়নে এই ধরনের উল্কাপাত ভূমিকা রাখতে পারে। এটি আদৌ হবে নাকি সম্ভাবনায় রয়ে যাবে? এটি প্রকৃতিক নাকি কৃত্তিমভাবে ঘটানোর পায়তারা চলছে?
অতি নিকট ভবিষ্যতে এ ধরনের একটি বড় উল্কপাতের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ইন শা আল্লাহ, স্পিরিচুয়াল ইন্টারপ্রিটেশনের যে কথা এতদিন বলে আসছি। ভারত উপমহাদেশের ভয়াবহতম যুদ্ধের সাথে এই উল্কাপাতের সম্পর্ক আছে। জানিনা এর মাধ্যমে শয়তান তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে নাকি এটি এই ভূখণ্ডে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আলামত। তবে ব্যাখ্যা হতে পারে, ২০২৪ সালে যেসব সাপের ছোবলে এই ভূখণ্ড আক্রান্ত হয় তা চলমান থাকবে ও স্কেল আপ হতে হতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছাবে এবং সমাপ্তি ঘটতে পারে উল্কাপাতের মাধ্যমে। এটি নিয়ে ডার্ক ফোর্সের সম্মিলিত বাহিনীর যতই পরিকল্পনা থাক তা বুমেরাং হয়ে তাদেরই পরাজয়ের কারণ হতে পারে। কারণ হাদিস অনুযায়ী চূড়ান্ত ফলাফল এটাই যে ধ্বংসস্তুপ থেকে ঘুরে দাড়ানো একদল মজলুমকে আল্লাহ বিজয় দান করবেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে ইন শা আল্লাহ।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
মধ্যপ্রাচ্যের সাথে এই উপমহাদেশের সম্ভাব্য দাঙ্গা হাঙ্গামার স্পষ্ট পার্থক্য আছে। কারণ উদ্দেশ্য ভিন্ন। শ্যামদেশে তাদের ভূমি দরকার কিন্তু এই অঞ্চলে ভূমি না, জনসংখ্যা হ্রাস অর্থাৎ ডিপপুলেশন এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং মানচিত্র পরিবর্তন করে নতুন শাসন ব্যবস্থা চালু করা। জনসংখ্যা বলতে এখানে মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাসের মধ্য দিয়ে নতুন একটি মানচিত্রের জন্ম দিতে চায়। ১৯৭৪ সালে ক্লাব অফ রোমের প্রটোটাইপ মানচিত্র উপস্থাপন করে বিশ্বকে নতুন ১০টি বৃহৎ রিজিওনাল অঞ্চলে বিভক্তির উল্লেখ পাওয়া যায় যে মানচিত্রের মাধ্যমে নতুন বিশ্বের প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে অর্থাৎ নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার বাস্তবায়নের চেষ্টা হবে। বিবলিক্যাল প্রফেসিতে এই মানচিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে নতুন ১০টি রাজার কথা বলা আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশের দেশগুলো মিলে একটি রাজা। গ্রেটার ভারত বলে যে আওয়াজ শোনা যাচ্ছে এটিই সেই ক্লাব অফ রোমের তৈরি নতুন মানচিত্রের মাস্টারপ্লান। এটি বৃহৎ পরিকল্পনা। এখানে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে ছোট ছোট কিছু ব্যাপার উল্লেখ করার চেষ্টা করব। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে উপমহাদেশের পার্থক্য যেমন স্পষ্ট তেমনি আবার বাংলাদেশের সাথে অন্যদেশ বিশেষ করে ভারত বা পাকিস্তানের সাথে সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। পাকিস্তান ও ভারতের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এই লেখায় আছে। সেখানে যেসব পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায় তার থেকে বাংলাদেশের নিশানা ভিন্নভাবে সাজানো। কিন্তু যতটুকু আলামত পাওয়া যায় তাতেই যে পরিণতি হতে পারে তা সামলানোর কোন অবস্থা আমাদের নেই। উল্লেখ্য এখানে সম্ভাব্য বলার কারণ চূড়ান্ত পরিণতি কেবলই আল্লাহ জানেন। এর মানে এই না এগুলো নিছক অনুমাননির্ভর বানোয়াট গল্প। তাদের টার্গেট এই অঞ্চলের মুসলিম দেশ তথা নিরীহ মুসলিম জনগোষ্ঠী। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এই তিন মুসলিম দেশকে টার্গেট করতে গেলে ভৌগলিক ও রণকৌশলগত কারণে ভারত তথা পুরো এশিয়া আক্রান্ত হয়ে পরবে। এর একটা কারণ হলো পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশ। আরেকটি কারণ অপ্রতিরোধ্য আফগানিস্তান। ফলাফল প্রাথমিকভাবে তাদের ডিপপুলেশন এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া জড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশ একসাথে অসংখ্য সাপের ছোবলে পরতে যাচ্ছে এমন স্পিরিচুয়াল ইন্টারপ্রিটেশনের কথা উল্লেখ করি ছোট্ট একটি ফেসবুক পোস্টে। এটি হতে পারে চতুর্মূখি ফিতনা শুরুর আলামত। এগুলোর ধরন কেমন হতে পারে তার সম্ভাব্য চিত্র নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
➥ কৃত্তিমভাবে তৈরি কিন্তু কথিত জলবায়ু পরিবর্তন জনিত চরম বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে পারে বাংলাদেশ। সারাবিশ্ব একই বিপর্যয়ের মুখে পরতে পারে। বৃষ্টিপাত, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খড়া থেকে শুরু করে ভূমিকম্প পর্যন্ত কৃত্তিমভাবে ঘটানোর প্রযুক্তিকে এখন পর্যন্ত কন্সপাইরেসি থিউরি হিসেবে ঘুম পারিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের সবখানে সামরিক অস্ত্র হিসেবে আবহাওয়া পরিবর্তন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সামনে আরো ব্যাপকভাবে হবে। ক্লাব অফ রোমের গ্রেটার রিজিওন্যাল ম্যাপের আকৃতি দেয়া হবে কৃত্তিম ভূমিকম্প এবং উল্কাপাতের মাধ্যমে এমনটাও মনে করা হয়।
➥ প্রযুক্তির দ্বারা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতি করে কৃত্তিম দুর্ভিক্ষ তৈরি করা হতে পারে। সামনের দিনগুলোতে আমদানি রপ্তানি চরমভাবে সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, যেটি দুর্ভিক্ষের আরো একটি কারণ হতে পারে। যেসব দেশ নিজে উৎপাদনে ব্যর্থ হবে সেখানে দুর্ভিক্ষ চরম আকার ধারন করবে। বাংলাদেশ আমদানী নির্ভর দেশ হওয়াতে এই সম্ভাবনা প্রবল।
➥ ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন, বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বিচারহীনতার ফলে যে নৈতিক অবক্ষয় হয় তার চরম পরিণতি হলো সামাজিক অস্থিরতা। কে কাকে কি কারণে মারবে তার কারণ যে মারবে সে যেমন জানবে না, যে মার খাবে সেও জানবে না।
➥ টার্গেটেড কিলিং। প্রযুক্তির সহায়তায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে হত্যা নির্যাতন বাড়তে পারে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি মানুষ, ইসলামিক চিন্তাবিদ, এক্টিভিস্ট থেকে শুরু করে নিরীহ মানুষরা এই টার্গেটের শিকার হতে পারে। নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের লক্ষ্য অর্জনে এখন যেই ইসলামিক সেন্টিমেন্ট, ব্যক্তি ও গ্রুপকে ব্যবহার করা হচ্ছে, ধীরে ধীরে এরাই আবার মূল টার্গেটে পরিণত হবে। কারণ খুব সিম্পল। ৯০ থেকে শুরু হওয়া এনডব্লিউও এর উদ্দেশ্যই নিরীহ মুসলিম নিধন। আর কৌশল হলো পিছন থেকে কলকাঠি নেড়ে মুসলমানদের একপক্ষকে দিয়ে অপরপক্ষকে ধ্বংস করা। ডেভিল হান্টের মতো অপারেশনের গতিপ্রকৃতি উল্টে যেতে পারে। কারণ ডেভিল সবসময় নিজেকে পীর মনে করে এবং উল্টা মজলুমদেরকেই ডেভিল মনে করে।
➥ এ টিম এক্টিভেটেড থাকলে ছদ্মবেশী বি টিমও প্রস্তুত আছে। এ টিমের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে পরলে আবারো একটা সাজানো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ টিমকে পরাস্ত করার নাটকের মাধ্যমে বি টিম চলে আসতে পারে যারা আরো বেশি ছদ্মবেশী এবং আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের কাছে এদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা থাকবে। আবারো মানুষ খুশিতে বরণ করে নিবে, মিষ্টির দোকান ফাঁকা হয়ে যাবে। তবে হাতে সময় অনেক কম, তাই এই পয়েন্টটি বাস্তবায়নের দিকে না গিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত ভিন্ন দিকেও মোড় নিতে পারে। চক্রান্ত ধরতে সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে অপশনটি মাথায় থাকলে ক্ষতি নেই। কোন সন্দেহ নেই যে প্লান এ, বি, সি ইত্যাদি প্রস্তুত আছে। পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত প্লান এক্টিভেট করা হবে। আসলে আমরা গাফেল। এ সময় একটার পর একটা ফিতনা আসবে। মানুষ ভাববে এটা বুঝি শেষ হয়ে গেলো। আসলে পরবর্তী ফিতনা হবে আগের চাইতে বহুগুণে ধ্বংসাত্মক। এটি হাদিসের রেফারেন্স। কাজে ‘আগেই ভালো ছিলাম’ কথাটি আরো অনেক দূর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
➥ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সময় এখন। কোন্ ইতিহাস কোন্ মাত্রায় পুনরাবৃত্তি ঘটবে সেটি অনুধাবন করার বিষয়। এটি একাত্তরের পুনরাবৃত্তির সময়। ইতিহাস সাক্ষি, বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী আমাদের ভরসার জায়গা। বর্তমান অবস্থান যেদিকেই থাক, চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ সঠিক মেরুকরণের দিকে যাবে এমনটা আশা রাখা যায়। পরিস্তিতি টালমাটাল হয়ে পরলে ঠিকই সৎ ও দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা দেশকে রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পরবে।
➥ বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মতো কোন পরিকল্পনার আলামত পাওয়া যায়নি যেমনটা পাকিস্তানের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। অথবা গ্রেটার ম্যাপের অন্তর্ভূক্ত করতে বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। অথবা ভৌগলিক ও এখানকার মানুষের সহিষ্ণু আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের কারণে সেটি সম্ভব নয় বলে পরিকল্পনাকারীরা সে পথে যায়নি। আর এজন্যই গৃহযুদ্ধ, টার্গেটেড কিলিং এবং নানারকম ফিতনার মাধ্যমে জনসংখ্যা হ্রাস করে টিকে থাকা মানুষদের নিয়ে নতুন বিশ্ব গড়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
➥ এই টিকে থাকা মানুষদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবনকে প্রযুক্তির শেকলে এমনভাবে বেধে ফেলা হবে যেন তাদের চিন্তা চেতনার উপরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (Total Control) প্রতিষ্ঠা করা যায়। এআই, ডিজিটাল আইডি, সিবিডিসি, নিউরালিংক, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ইত্যাদি তার উদাহরণ। সারা বিশ্বে টিকে থাকা মানুষদেরকে নিয়ে তাদের একই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে।
➥ পার্বত্য এলাকা, সমুদ্র এবং সংবিধান সংস্কার এগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। পাবলিক সেন্টিমেন্ট বুঝে লোক দেখানো কিছু কাজের মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ ভিন্নদিকে রেখে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা হতে পারে। প্রকৃত অর্থে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধান প্রস্তুত করা হবে। নারীবাদি ইস্যু এবং তার আড়ালে এলজিবিটিকিউ এর মতো একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বিরোধী এজেন্ডা সংবিধানের মূল ভিত্তির সাথে যুক্ত হবে শব্দের ম্যারপ্যাচে। এগুলো শতভাগ ধোঁকা। কিন্তু এমনভাবে উপস্থাপিত হবে যেখানে সত্য ও মিথ্যা, ভালো ও মন্দের গোলকধাঁধা তৈরি করা হবে যেন মানুষ বিভ্রান্ত হয়। কাজেই সাধারণ মানুষের মাঝে পক্ষ বিপক্ষ তর্ক চলবে।
➥ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং রণকৌশলগত কারণে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা ও ভারতের সেভেন সিস্টার্সের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বহিঃশক্তির হাতে চলে যেতে পারে যেটি ইতিমধ্যে দিবালোকের মতো পরিষ্কার। এখানেই শেষ নয়। পরাশক্তির সামরিক ঘাটি মানে হলো শুধু বাংলাদেশ নয় উত্তপ্ত হবে পুরো এশিয়া।
➥ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে একক পরাশক্তিকে খুশি করা গেলেও চীনের যে বাণিজ্যিক ও ভৌগলিক স্বার্থ চরমভাবে বাধাগ্রস্থ হবে তার জবাবে তাদের প্রক্সি বাহিনীকে ব্যাপকভাবে প্রস্তুত করা শুরু করবে। ধীর পায়ে এগিয়ে আসবে রাশিয়া। ফলাফল হলো পরাশক্তিদের প্রক্সি যুদ্ধের নতুন ময়দান হলো ভারত উপমহাদেশ। মূল ফ্রন্ট কাশ্মীর, মায়ানমার, ভারত, পাকিস্থান হলেও পুরো দক্ষিণ এশিয়া জড়িয়ে যাবে। সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশ আক্রান্ত হওয়ার মাত্রা সহজেই অনুমেয়।
➥ কাশ্মীর, ভারত, পাকিস্তানকে ঘিরে আকষ্মিক বড় যুদ্ধের পার্শপ্রতিক্রিয়ার ঝুকির মধ্যে আছে বাংলাদেশ। সমর বিশ্লেষকদের মতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ট্রেডিশনাল ওয়্যারফেয়ারের মতো হওয়ার সম্ভাবনা কম। দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর হওয়ায় তা প্রয়োগের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এখানে প্রতিটি কথা তাদের পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করি। চূড়ান্তভাবে কি বাস্তবায়ন হতে পারে এস্কেটোলজিক্যাল গবেষণা থেকে প্রাপ্ত সেসব পরিণতির কথা একাধিক লেখায় পাবেন। মোট কথা হলো ধ্বংস করা পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা ঠিক থাকবে।
করণীয় কি?
লেখাটি যারা পড়বেন ধারনা করি তারা বিশেষ করে ধর্ম, ভূরাজনীতি এবং সামরিক বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন। করণীয় কি সে সম্পর্কেও খুব ভালো জানেন। এখানে শুধুমাত্র যে বিষয়গুলো নিজেকে দিয়ে উপলব্ধি করতে সক্ষম হই তেমন কিছু করণীয় বিষয় শেয়ার করার চেষ্টা করব। এছাড়া বিষয়গুলো সবাই জানি। শুধু মনে করিয়ে দেয়া যে এগুলো পালন করা ছাড়া এখন আর কোন উপায় নেই।
পাহাড় এবং গ্রাম বাসস্থান হিসেবে এই সময়ের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। কৃষি কাজ এই সময়ের সবচেয়ে নিরাপদ পেশা। সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তি থেকে যত দূরে থাকা যায় জীবন তত নিরাপদে থাকবে। প্রকৃতির উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে। শারিরীক ফিটনেস বাড়াতে হবে। জীবনের চাহিদাকে ন্যুনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা যেন হঠাৎ যেকোন খারাপ পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া যায়। এমনভাবে ট্যাপের পানি ব্যবহার করুন যেন ট্যাঙ্কিতে পানি প্রায় শেষ পর্যায়ে, যতটুকু আছে তা দিয়েই প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে হবে। অর্থাৎ মিতব্যয়ী হতে হবে। সপ্তাহে দুইদিন রোজা রাখার মাধ্যমে ক্ষুধার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া যায়। সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতিতে এগুলোই বেঁচে থাকার জন্য নির্দেশিত পথ। সামরিক, মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক ভালো ভালো কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। নেট সার্চ করলে পাওয়া যায়। এগুলোর বাহিরে ভিন্ন কিছু বিষয়ের উপর জোর দেয়ার চেষ্টা করব।
করণীয় কি সে সম্পর্কে ধারনা নেয়ার জন্য হযরত মুহাম্মদ সা. এর নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত সময়ের প্রাসঙ্গিক দিকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের শুরুর দিকে মক্কার জুলুম নির্যাতনের যে সময় পার হয়েছে মুসলিম বিশ্ব সেরকম একটা সময় পার করছে। সেই সময়ের প্রেক্ষিতে প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা. এর নেয়া সিন্ধান্তগুলো আমাদের এই সময়ের আদর্শ। সূরা কাহাফের যুবকরা আমাদের আদর্শ। সূরা কাহাফ অন্তরে ধারন করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি যেদিকে যায় সেদিকে গা ভাসানোর সুযোগ নেই। সবখানে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে নতুন বিশ্বকে (ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডার) প্রস্তুত করার জন্য, মজলুমদের মুক্তির জন্য নয়।
সমস্যা চিহ্নিতকরণ
রোগ নির্মূলের জন্য রোগ নির্ণয় আগে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর চিকিৎসা। এখান থেকেই বের হয়ে আসবে করণীয় কি হবে। রোগ চিহ্নিত করার জন্য নতুন করে গবেষণার কোন প্রয়োজন নেই। প্রতিটি ক্ষত ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়ে আছে। এজেন্ডা ২০৩০ সম্পর্কে আমাদেরকে ভুল বুঝানো হয়েছে। সাম্য, অধিকার, মানবাধিকার, শান্তির নামে বিপরিতমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে ভন্ড মাসিহার মিথ্যা শান্তির নতুন সভ্যতা তৈরির জন্য। যদিও বিশ্বাসীরা জানে এর মধ্য দিয়েই সত্যিকার শান্তির নতুন সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু তার বিনিময় মূল্য অনেক চড়া। অনেক রক্ত ঝরবে। শান্তির নামে যে সেক্টরগুলোতে বিপরীতমুখী পরিবর্তন আনা হয় তা জাতিসংঘের এসডিজি ১৭টি পয়েন্টের ভিতরে নিহিত আছে।
মনে হতে পারে যে এগুলোর সাথে ভারত উপমহাদেশের গ্রেট ওয়্যারের কি সম্পর্ক? শুধু ভারত উপমহাদেশে না, বিশ্বে এখন যা হচ্ছে তার সবকিছুর সাথে এগুলো সম্পর্কিত। আসলে যুদ্ধ সম্পর্কে ভুল বয়ান প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। পক্ষ বিপক্ষ উভয়কে নিয়ন্ত্রণে রেখে সাজানো যুদ্ধ ও বিপ্লবের ময়দানে নামিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়ন হয়ে আসছে ফরাসি বিপ্লব থেকে। মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। যে সিস্টেমকে নষ্ট করা হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করতে হলে যেসব অনুসঙ্গের মাধ্যমে সিস্টেম নষ্ট হয়েছে সেখানে হাত দিতে হবে। সভ্যতার ফিতরাতকে নষ্ট করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী লক্ষমাত্রা নিয়ে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় তার নাম এজেন্ডা ২০৩০। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু লোকদেখানো ভালো কাজের আড়ালে প্রকৃতপক্ষে ফিতরাত –এর পরিবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ সহজাত প্রকৃতি, আদি স্বভাব, প্রাকৃতিক গঠন, মেজাজ বা সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যকে নষ্ট করা হয়েছে। এটি হতে পারে খাবার-দাবার, কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত বীজ ধ্বংস করে কৃত্তিম হাইব্রিড, জিএমও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। হতে পারে সমান অধিকারের কথা বলে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অস্বীকার করে নারী-পুরুষের সম্পর্কের ফিতরাতকে নষ্ট করে। হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের আড়ালে কৃত্তিম আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলে উল্টা আরো ভারসাম্য নষ্ট করে। এরকম প্রতিটি বিপরীতমুখী পরিবর্তনের জলন্ত উদাহরণ এখন আমাদের চোখের সামনে। খাবারে পুষ্টি নেই, দেশীয় বীজ খুজে পাওয়া যায় না। নারী নির্যাতন কমেনি, বৈষম্য কমেনি বরং বেড়েছে। যুদ্ধ কমেনি বরং তা এখন চূড়ান্ত মাত্রায় এসে পৌছেছে। তারা আসলে মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে। শান্তির কথা বলে বিপরীত প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। সম্ভবত ২০১৭ সালে রাশিয়ান গবেষকরা এসডিজির ১৭টি পয়েন্টের মুখোশ উন্মোচন করে। নিচে উল্লেখিত এসডিজি ১৭টি মূল পয়েন্ট বাম দিকে এবং উক্ত গবেষকদের উন্মোচন করা পয়েন্টগুলো ডান দিকে দেয়া হলো। এবার বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখুন এতোদিন ধরে বাম দিকের নাকি ডান দিকের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়।
| SDG Goals | Translations |
| End poverty in all its forms everywhere Goal 1: No poverty → | Redistribute wealth and resources to make the super-rich wealthier and the middle classes poorer |
| End hunger, achieve food security and improved nutrition and promote sustainable agriculture Goal 2: Zero hunger → | Increase use of drought-flood- and aluminum-resistant GM crops, fortified with synthetic vitamins and minerals, creating disease and causing depopulation |
| Ensure healthy lives and promote well-being for all at all ages Goal 3: Good health and well-being → | Mandate vaccinations for all children and adults, medicate children with ‘behavioral issues’, and assign every child a ‘named person’, removing parental freedom, privacy and responsibility |
| Ensure inclusive and equitable education and promote lifelong learning opportunities for all Goal 4: Quality education → | Socially engineer children to conform to politically correct agendas, standardize and dumb down the curriculum to produce adults incapable of independent thought |
| Achieve gender equality and empower all women and girls Goal 5: Gender equality → | Promote LGBTQ and feminist agendas, marginalize families, heterosexuality, men and boys |
| Ensure availability and sustainable management of water and sanitation for all Goal 6: Clean water and sanitation → | All water controlled by corporations, local government or state, including rivers and wells on private land |
| Ensure access to affordable, reliable, sustainable and modern energy for all Goal 7: Affordable and clean energy → | Increase taxes on traditional fuels and institute usage caps for every household, monitored by health-destroying smart meters |
| Promote sustained, inclusive and sustainable economic growth, full and productive employment and decent work for all Goal 8: Decent work and economic growth → | Mandate minimum wages, compliance and certification, and introduce employment quotes that discriminate against the best qualified persons for the job |
| Build resilient infrastructure, promote inclusive and sustainable industrialization and foster innovation Goal 9: Industry, innovation and infrastructure → | Mandate changes to infrastructure in all countries, creating greater national debt to be paid for by levying higher taxes on the population |
| Reduce inequalities within and among countries Goal 10: Reduced inequalities → | Push international trade agreements on all countries (TAFTA, NAFTA, CAFTA, GATT, TTIP & TPP) to benefit mega-corporations |
| Make cities and human settlements inclusive, safe, resilient and sustainable Goal 11: Sustainable cities and communities → | Create protected rural spaces, forcing people into cities / mega cities with 24/7 surveillance in all public places and ban single-family homes with gardens |
| Ensure sustainable consumption and production patterns Goal 12: Responsible consumption and production → | Introduce utility quotas and penalize waste disposal, and encourage people to report on offending people or businesses |
| Take urgent action to combat climate change and its impacts Goal 13: Climate action → | Implement carbon taxes, and legalize current weather modification and geoengineering practices |
| Conserve and sustainably use the oceans, seas and marine resources for sustainable development Goal 14: Life below water → | Mandate licences and quotas for all fishing, including individuals who fish for their own consumption |
| Protect, restore, and promote sustainable use of terrestrial ecosystems; sustainably manage forests; combat desertification; and halt and reverse land degradation and biodiversity loss. Goal 15: Life on land → | Ensure every possible seed is preserved in the Svalbard Global Seed Vault so the powers-that-be can regenerate the earth for themselves after they destroy it for everyone else |
| Promote peaceful and inclusive societies, provide access to justice for all, and build effective, accountable, and transparent institutions at all levels. Goal 16: Peace, justice, and strong institutions → | Strengthen police states everywhere, institute pre-crime departments and RFID chips to track everyone, while giving tax breaks to organizations that promote certain government agendas via hiring policies or their product/service offering |
| Strengthen the means of implementation and revitalize the global partnership for sustainable development Goal 17: Partnerships for the goals → | End national sovereignty, placing every country under the socio-communist rule of a totalitarian One World Government |
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ এমনকি খোলা চোখে দেখলেও দিনের আলোর মতো স্পষ্ট দেখা যায় যে উপরের বাম দিকের এজেন্ডার আড়ালে প্রকৃতপক্ষে ডান দিকের এজেন্ডা বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশ্ব ব্যবস্থার ফিতরাতকে সম্পূর্ণ উল্টে দেয়া হয়েছে। এজেন্ডা ২০৩০ এর আড়ালে বাস্তবায়িত বিষয় নিয়ে সমসাময়িক আলোচনা জানা যাবে এমন কিছু গ্রুপের লিংক নিচে:
সমস্যাগুলোর দিকে তাকালেই বুঝা যায় এর সমাধান কতটা কঠিন। কিন্তু যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ফিতরাতকে ধ্বংস করা হলো তা ফিরে না আসা পর্যন্ত মিথ্যা মাসিহার বিজয়রথ ঠেকানো যাবে না, সত্যিকার শান্তির নতুন সভ্যতাও প্রতিষ্ঠিত হবে না। এস্কেটোলজিক্যাল বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া যায় সত্যের বিজয় শুরু হবে এই ভারত উপমহাদেশ থেকে। কিন্তু তার বিনিময় মূল্য অত্যন্ত চড়া। আমাদের সামর্থ খুবই সামান্য, নাই বললেই চলে। প্রতিরোধতো অনেক দূরের বিষয়, জানিও না রোগটা কোথায়। তাই আগে জানার চেষ্টা করি, সচেতন হই এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি।
চক্রান্ত বুঝতেই হবে
অন্তর্জালের মতো চারপাশে চক্রান্তের জাল বোনা আছে। যে চক্রান্তকে ঘোলাটে করতে তারা কন্সপাইরেসি থিউরি নামক কনসেপ্টের জন্ম দেয়। যে থিউরি দিয়ে এমন দৃশ্যপটের উদ্ভব ঘটানো হয় যেখানে সত্য ও মিথ্যাকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পরে। দাজ্জালের ধোঁকা সম্পর্কে সচেতন না হলে এ ধরনের দ্বৈত দৃশ্যপট থেকে সত্য বের করে আনা অনেক কঠিন। কারণ তারা সেই পরিকল্পনা এমনভাবে সাজায় যা পুরোটাই ধোঁকা কিন্তু তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থেকে যায়। সচেতনভাবে বা অজ্ঞতার কারণে মানুষ সেই বিতর্কে জড়িয়েও পরে। যেমন গ্রেট রিসেট প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম বিশ্বের সচেতন মানুষদের কাছে চরমভাবে সমালোচিত হয় এবং তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাদের লোগো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নিচের ছবিটি ভালো করে লক্ষ্য করলে সত্য মিথ্যার প্যারাডক্সে ঢুকে যাবেন। কেউ বলে লোগোর ভিতর দাজ্জাল বা অ্যান্টিক্রাইস্টের চিহ্ন ৬৬৬ লুকানো আছে। কেউ কন্সপাইরেসি থিউরি বলে উড়িয়ে দেয়। আসলে দাজ্জালিক চক্রান্ত এবং ডিপফেক সম্পর্কে ধারনা না থাকলে এ সময়ের ছোট ছোট বিষয়েও সঠিক সিন্ধান্তে পৌছানো কঠিন। বড় বড় চক্রান্তের গোলকধাঁধা কতটা গভীর হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব চক্রান্ত সম্পর্কে ধারনা না থাকলে তুখর বুদ্ধিমান মানুষ বা বিশ্ববরেণ্য আলেম, যেকেউ বিভ্রান্তিতে পরে ভুল সিন্ধান্ত নিতে পারে। কাজেই সঠিক সিন্ধান্ত নিতে হলে চক্রান্তের শেকর বুঝতেই হবে এবং এর জন্য যে অন্তদৃষ্টি প্রয়োজন তার কোন বিকল্প নাই।

ভারত উপমহাদেশের সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রাথমিকভাবে একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ। এই চক্রান্ত না বুঝলে পদে পদে সিন্ধান্ত নিতে ভুল হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই লড়াইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে পক্ষ বিপক্ষ একই পরিকল্পনার অংশ, যার উদ্দেশ্য ডিপপুলেশন। যদিও চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে এই পরিকল্পনা পাল্টে যেতে পারে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু শুরুতে কৃত্তিম সংকট তৈরি করে সংঘাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্য অসংখ্য উস্কানিমূলক কাজ করা হচ্ছে। আর প্রতিটি চক্রান্তের মাঝে সত্য ও মিথ্যার প্যারাডক্স মিশ্রিত আছে যাতে করে একপক্ষ এটিকে বানোয়াট বা কন্সপাইরেসি থিউরিস্টের চিন্তাভাবনা বলে উড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু সত্য এটাই যে চক্রান্ত আমাদের চারপাশে জালের মতো বোনা আছে।
বাংলাদেশকে নিয়ে পর্দার আড়ালের চক্রান্ত না বুঝলে অথবা বুঝেও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে এর চরম মূল্য দিতে হবে। এ সময়ের চক্রান্ত অতীতের আর দশটা চক্রান্তের মতো নয়। এমনভাবে গেইম সাজানো হয়ে থাকতে পারে যে পার্বত্য এলাকার রফাদফা হয়ে গেলে বা সংবিধানের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় বড় পরিবর্তন আনা হলে যারা বিপক্ষে কথা বলবে তারাও মেটিকুলাস পরিকল্পনার অংশ। লোক দেখানো বিরোধীতা, বিবৃতি, বিক্ষোভ করে আল্টিমেটলি চক্রান্তকারীদের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে। এই চক্রকে চিহ্নিত করা খুব কঠিন কাজ নয়। সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানো কঠিন। কারণ তারা মানুষের আবেগের জায়গা দখল করে খেলে যাচ্ছে। এটি বিপদজ্জনক খেলা। এদের তালিকা অনেক লম্বা এবং বৈচিত্রপূর্ণ। সুশীল থেকে শুরু করে ইসলামিক সেলিব্রিটি, ছদ্মবেশী প্রতিবাদি বিপ্লবী এরকম অনেকে চলে আসতে পারে তালিকায়। এরা নিরপেক্ষ ও ধর্মের লেবাস ধারন করে আছে। এরা এক কথায় নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার এজেন্ট। অল্পকিছু মানুষ যারা নিরেট সত্য উপলব্ধি করবে তারা অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে দেখবে। জানা নাই সেখান থেকে ফিরে আসার লড়াই কতটা কঠিন হতে পারে। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা যুদ্ধ পরিস্থিতি, পাহাড় দখলের নকশা, সীমান্তে উত্তেজনাসহ সব অস্থিরতা সামাল দিতে আমাদের কোন প্রস্তুতি নাই। সামনে আরো বড় বড় চক্রান্ত অপেক্ষা করছে। পদক্ষেপ নেয়া তো দূরের কথা, চক্রান্ত বোঝায় দায় হয়ে গেছে!
বিশ্বাসের যুদ্ধ; কখন অংশ নিবেন, কখন না
যুদ্ধ কেবল বন্দুক, গোলাবারুদে হয়না; যুদ্ধ হয় চেতনার, বিশ্বাসের। ১৮৭১ সালে ফ্রিম্যাসন আলবার্ট পাইক তিনটি যুদ্ধের কথা লিখেন, যা ধাপে ধাপে মানব সভ্যতাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাবে যেখানে মানুষ নিজেই তার বিশ্বাস, তার ধর্ম এবং মানবিকতাকে নিয়ে প্রশ্ন করবে। তিনি লিখেন “আমাদের পরিকল্পনা বহু প্রজন্মের জন্য। যুদ্ধ হবে তিনবার, প্রতিবারই মানুষকে এক ধাপ করে নিয়ে যাবে এক নতুন ব্যবস্থার দিকে। প্রতিটি যুদ্ধের আগুন মানব সভ্যতার মিথ্যা বিশ্বাসকে পুড়িয়ে ফেলবে।” তার মতে প্রথম যুদ্ধ হবে রাজতন্ত্রের পতনের জন্য, দ্বিতীয় যুদ্ধ মতাদর্শগত সংঘাতে, তৃতীয় বা চূড়ান্ত যুদ্ধ বিশ্বাসের নামে। একটি বড় যুদ্ধকে অসংখ্য দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা যায়। কিন্তু আলবার্ট পাইকের কথা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, সব বড় বড় যুদ্ধ বিপ্লব তাদের পূর্ব পরিকল্পিত নকশার ফসল। বলা যায় একই চিন্তাধারা এবং আর্থিক সহায়তা থেকে সুপরিকল্পিত যুদ্ধ-বিপ্লবের সূচনা হয় ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। বলতে দ্বিধা নাই – ফরাসি বিপ্লব থেকে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব; সবই সাজানো, একই পরিকল্পনার অংশ। উদ্দেশ্য হলো নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। পাইকের মতে প্রতিটি যুদ্ধের মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাসকে ধাপে ধাপে ধ্বংস করে দেয়া হবে। এরপর জন্ম নেবে এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা, যেখানে শাসন করবে জ্ঞান ও বিশ্বাসের নামে নতুন একক শক্তি। আলবার্ট পাইকরা মনে করে বিশ্বাসের উপর বারবার আঘাত আসলেই মানুষ সৃষ্টিকর্তার উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, লুসিফারকে স্রষ্টা হিসেবে মেনে নিবে। এটিই লুসিফারিয়ান অর্ডার বা ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডার। মোট কথা সমস্ত কিছুর উপর থেকে যখন মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে লুসিফারের শাসন ব্যবস্থা।
এই বিশ্বাস ভাঙ্গার যুদ্ধ সংঘাতের সূচনা হয় সম্ভবত ফরাসি বিপ্লব থেকে। পক্ষ বিপক্ষ উভয়কে একই সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা শুরু তখন থেকেই। রথচাইল্ড পরিবার ফরাসি বিপ্লব এবং পরবর্তী নেপোলিয়নিক যুদ্ধের সময় উভয় পক্ষ অর্থাৎ রাজশক্তি এবং বিপ্লবীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ জোগান দিতো। এটিই উভয়পক্ষকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ধীরে ধীরে এই কৌশলই যুদ্ধ ও শাসন ব্যবস্থার শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আড়ালের কুশীলব কে তা মানুষ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনা। যুদ্ধে পক্ষ-বিপক্ষ উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দুর্ভিক্ষ, অব্যবস্থাপনার দরুণ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যাতে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যায়। তখনই নতুন সিস্টেম হাজির করা হয়। সেটিকেই মানুষ মেনে নেই। এটিই কুশীলবদের মৌলিক দর্শন – বিশ্বাস নষ্ট করো, নতুন সিস্টেম হাজির করো।
আলবার্ট পাইককে আলো-অন্ধকার আধ্যাত্মিক দর্শনের পণ্ডিত বলা হতো। আলো-অন্ধকার, ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, সত্য-মিথ্যার গোলকধাঁধা তৈরি করে লক্ষ্য অর্জনের কৌশল তাদের অনেক পুরনো। হয়ত একই সিস্টেম নিয়ন্ত্রিত এই প্রবণতাও শুরু হয় ফরাসি বিপ্লবের কিছু আগে পরে। আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি নৈপুণ্যের সাথে এই চর্চা এখনও অব্যাহত আছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিভাবে মানুষের বিশ্বাস চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হতে পারে তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করা যাক। জাতিসংঘকে একশ্রেণীর মানুষ মানবতার প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছিল। সেই বিশ্বাস চূড়ান্তভাবে নষ্ট হয় ফিলিস্তিন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বিশ্বাস নষ্ট করা যদি উদ্দেশ্য না হতো তাহলে মিডিয়াকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে গণহত্যা ও ভূমি দখল করা হতো। এটি তাদের পক্ষে অসম্ভব ছিলনা। আবার সেই যুদ্ধে একশ্রেণীর মানুষ এক/একাধিক দলকে বিপ্লবী ত্রাণকর্তা হিসেবে মেনে নেয়া শুরু করলো। সেই বিশ্বাসেও ইতিমধ্যে চিড় ধরা শুরু করে। শুরুতে বিতর্ক থাকলেও এখন অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে তারা আসলে ফলস এনিমি বা কনট্রলড অপোজিশন হিসেবে কুশীলবেদেরই যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে কাজ করে। নিরীহ মানুষ হত্যা ও ফিলিস্তিনের ভূমি দখল যে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল। কেউ ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের স্পর্শকাতর মতামত মনগড়া বা গতানুগতিক তথ্য বিশ্লেষণের উপর নির্ভর করে দেয়া কঠিন। মোটকথা চক্রান্ত না বুঝতে পারায় দুর্বল আবেগ ও বিশ্বাসের মানুষদের এই যুদ্ধেও বিশ্বাস ভঙ্গ হয় এবং বিভক্তি তৈরি হয়। এটিই কুশীলবদের চাওয়া।
এরপর সত্য ও মিথ্যা প্রতিপক্ষ হিসেবে রাশিয়া এবং ইরান এই দুটি দেশকে উদাহরন হিসেবে ধরা যায়। বাহ্যিকভাবে এই দুই দেশকেই পশ্চিমাদের চরম শত্রু হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এর মাঝেও আছে সত্য-মিথ্যার গভীর ধোঁকা। একটি সত্য, একটি মিথ্যা। নবী মুহাম্মদ সা. এর সময়ে পারস্য ও মক্কার কাফেরদের মধ্যে সুসস্পর্ক ছিল। বিগত ৬০/৭০ বছরের ইতিহাস ঘাটলেও ইরান আমেরিকার মধ্যে কিছু কূটনৈতিক টানাপোড়েন, লোকদেখানো বৈরিতা ছাড়া ভালো সম্পর্ক ছিল। ট্রাম্প সরকারের প্রথম দফা থেকে এই সম্পর্ক তলানিতে ঠেকা শুরু করে এমনটাই সবাই জানি। কিন্তু যে জায়গা (ইস্পাহান) থেকে দাজ্জালের আত্নপ্রকাশ হওয়ার কথা সেটিকে এতো সরল সমীকরণে হিসাব মিলানো যাবে না। ডিপ ফেইক থাকার অনেক আলামত ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। যে পরমানু অস্ত্র নিয়ে আমেরিকার আজ এতো চিন্তা সেই পরমানু সহায়তা তো তাদেরই দেয়া। ইরানের সংসদে ইহুদি সংরক্ষিত আসন, ইহুদিদের জন্য বাড়তি নাগরিক ও ব্যবসায়িক সুবিধাতো বর্তমান ইসলামী সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও বহাল ছিল। এখানে চূড়ান্তভাবে মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার অনুষঙ্গটি নিশ্চিত হয়ে নিন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইরানকে মুসলিম বিশ্বের ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রয়োজনীয়তা শেষ। কুশীলবরা ইরানকে নতুন কোন রূপে উপস্থাপন করতে চায়। হয়ত পরাজয়ের মধ্য দিয়ে নতুন একটি ইরান। এখানেও পক্ষ বিপক্ষ উভয়ে কুশীলবদের নিয়ন্ত্রণে আছে। পরাজয় হলে সেটি হবে সাধারণ ইরানীদের পরাজয়। ইতিহাস, চলমান যুদ্ধ কৌশল পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষা নিশ্চিত ধরে নেয়া যায় যে, সরকার বৃহৎ কোন লক্ষ্য অর্জনে মূল পরিকল্পনাকারীদের যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে কাজ করছে। পরাজিত করার মধ্য দিয়ে ইরানকে হয়ত আবারো মুসলিম বিশ্বের কাছে বিপ্লবী ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। শেষ মূহুর্তে মানুষ যখন জানতে পারবে যে নবী মুহাম্মদ সা. এর সময়ের পারস্য আর বর্তমান ইরানের মধ্যে কোন তফাৎ নাই তখন মানুষ আবারো হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরবে। বিশ্বাস উঠে যাবে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নগ্নভাবে পশ্চিমাদের পক্ষ নেওয়ায় আরব বাদশাদের প্রত্যাখ্যান করে ইরানকে মানুষ বিশ্বাস করলো, সেই বিশ্বাসে যখন বড় আঘাত আসবে তখন অবশিষ্ট আর কিছু থাকবে না। সে সময়ই কুশীলবদের হাজার বছরের আরাধনার শাসক শান্তির দূত হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে।
একইভাবে সারা দুনিয়াজুড়ে একদল মানুষকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ন্যায়ের পক্ষ হয়ে অভিনয় করার জন্য। সত্য-মিথ্যার গোলকধাঁধা তৈরির জন্য। বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে পিনাকী ভট্টাচার্য এর উদাহরণ। এলজিবিটিকিউয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া একটা শ্রেণীও একইরকম অভিনয় করে যাচ্ছে। এদের লোক দেখানো ভালো কাজের ফলাফল শূণ্য। এক সময় মানুষ ঠিকই জানতে পারবে যে তারা আসলে সাধারণ মানুষের হয়ে কাজের অভিনয় করে গেছে বিশেষ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য। নিজের অজান্তেই মানুষ তখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরবে, বিশ্বাস নষ্ট হবে, বিকল্প খুজতে থাকবে। তখনই উত্থান ঘটবে নতুন শাসন ব্যবস্থার।
উইকিলিকস, পানামা পেপারস এর ধারাবাহিকতায় এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের উদ্দেশ্যও একই। মানুষের বিশ্বাসের জায়গায় শক্ত আঘাত করা। জ্বি! এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ চলমান যুদ্ধ কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। যে যুদ্ধের লক্ষ্য মানুষের বিশ্বাসকে ভেঙ্গে দেয়া।
এগুলো আলবার্ট পাইকদের পরিকল্পনার একটা স্বরূপমাত্র। পাইকদের মতো দার্শনিকরা নিশ্চয় জানতো তৃতীয় যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের পরিকল্পনার সাথে এস্কেটোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণের অনেক ফারাক। আসলে জানলেও তারা এটি মানে না। এখানেই তাদের সাথে বিশ্বাসীদের পার্থক্য।
এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য আমরা কোন যুদ্ধ-বিপ্লবে অংশ নেব কোনটি থেকে দূরে থাকব বা কৌশলী অবস্থান নেব সেটি। আশা করি ইতিমধ্যে সমাধান বের হয়ে গেছে। এক কথায় প্রতিটি সাজানো যুদ্ধ থেকে নিজেদেরকে সতর্ক অবস্থানে রাখা উচিত। ফরাসি বিপ্লব থেকে প্রায় সব যুদ্ধ-বিপ্লব সাজানো। ভারত উপমহাদেশের চূড়ান্ত লড়াইয়েও একই মডেল অনুসরনের প্রস্তুতি পর্ব ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কুশীলবরা চায় মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুক আর ডিপপুলেশন এজেন্ডা বাস্তবায়ন হোক। একদিকে ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যবহার করে মানুষকে উস্কে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সেই বিশ্বাসকেই নষ্ট করে নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কাজেই মানুষ মারা, বিশ্বাস নষ্ট করে নতুন সিস্টেম চালু করার এই ফন্দি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। আড়ালে যারা পরিকল্পনা করে, প্রকৃত যুদ্ধ তাদের সাথে। প্রশ্ন হতে পারে – কিভাবে বুঝব কোন যুদ্ধ সাজানো? নিশ্চিতভাবে ভারত উপমহাদেশের প্রথম পর্বের যুদ্ধটি সাজানো যার লক্ষ্য ডিপপুলেশন এবং মানচিত্র পরিবর্তন করা। কাজেই যাদের লক্ষ্য বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত পৌছানো তারা এই পর্বে কৌশলী অবস্থানে থেকে নিজেদের তৈরি করা উচিত যাতে শেষ পর্ব পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকুন
প্রযুক্তি বিমুখতা না বরং প্রযুক্তির খুঁটিনাটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থেকে বলতে পারি যে সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তি থেকে যথাসম্ভব নিজেকে যত দূরে রাখা যায় জীবন তত নিরাপদ থাকবে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তি। বিকল্প হিসেবে বলা যায় প্রযুক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যাতে পরিকল্পনাকারীদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল না হয় বরং উল্টা তাদের উদ্দেশ্যের উপর ছুরি চালানো যায়। যদিও এর জন্য যত কৌশল রপ্ত করা দরকার সেটা সহজ নয়। তাদের পরিকল্পনা কি? এক কথায় আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা। সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে একজন মানুষের চিন্তা চেতনা থেকে শুরু করে জাতীয় আন্দোলনকেও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্মার্ট/ডিজিটাল আইডি এবং সিবিডিসির মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের (Total Control) প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তাদের এসব হীন উদ্দেশ্য ধরতে সক্ষম না হলে প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকাই উত্তম। কারণ প্রযুক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে প্রযুক্তি আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিবে। তবে কিছু কৌশল রপ্ত করা গেলে উত্তম সিন্ধান্ত হলো তাদের এই প্রযুক্তির জোয়ার থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে না গিয়ে বরং কিভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে সব নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে তা সম্পর্কে আরো খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করা উচিত যেন তাদের অসৎ উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করা যায়। ইউটিউব, গুগলে যতটুকু প্রয়োজন সার্চ করে ততটুকুই দেখা উচিত। ফেসবুকেও অপ্রয়োজনীয় তথ্য মাথায় ঢুকানো থেকে বিরত থাকা উচিত। খেয়াল করুন, সম্প্রতি ফেসবুক ফিডের অধিকাংশ পোস্ট (সম্ভবত ৮০%+-) ফ্রেন্ডলিস্টের বাহিরের অর্থাৎ আমরা চাই বা না চাই ফেসবুক অতিরিক্ত পোস্ট দেখতে বাধ্য করে। ফলে নিজেদের অজান্তেই মস্তিষ্কে অধিরিক্ত তথ্যের চাপ তৈরি হয়। এতে মস্তিষ্কের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া সহজ হয়ে যায়। এআই এ্যালগরিদম দিয়ে ইচ্ছামত কোন একটি ইস্যুর উপর তথ্যের প্রবাহ তৈরি করে যেটিকে আমরা ‘ভাইরাল হওয়া’ বলি। এভাবেই তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। রাজনীতি, ধর্ম, কোন আন্দোলন-বিপ্লব অথবা পণ্যের মার্কেটিং, যেকোন ক্ষেত্রে এর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টিভি মিডিয়ার থেকে অনেক অনেক ব্যাপক। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন না হলে প্রযুক্তি আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিবে। তাই কৌশলী অবস্থান হলো – প্রযুক্তি দিয়ে তাদের মন্দ উদ্দেশ্য সম্পর্কে সজাগ থাকা আবার একই প্রযুক্তিকে তাদের পরিকল্পনার বিপরীতে ভালো কাজে ব্যবহার করা। ধরি মাছ না ছুঁই পানি অথবা কইয়ের তেলে কই ভাজা।
ধ্যান, দাওয়াত এবং জিহাদ
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) একই সাথে দাওয়াতের কাজ করেছেন, ধ্যান করেছেন এবং জিহাদ করেছেন। আমাদের চরিত্রকে প্রিয় নবীর অনুসরণ করে তৈরি করতে হলে এই বৈশিষ্টগুলোর সমন্ময় দরকার। যদি সেটার প্রয়োজন না থাকতো তবে ওনার মাধ্যমে আল্লাহ এরকম উদাহরণ তৈরি করতেন যে ঠিক আছে নবী মুহাম্মদ সা. জিহাদ করবেন, ধ্যান করবেন কোন সাহাবি, আবার আরেকজন দাওয়াতের কাজ করবেন। কিন্তু সেটি না হয়ে একজনের চরিত্রের ভিতরেই এই সব বৈশিষ্টগুলো দিয়ে আল্লাহ আমাদেরকে এটাই শিক্ষা দিয়েছেন যে একজন আদর্শ মুমিনের ভিতর এই সব বৈশিষ্টের সমন্ময় থাকবে। রণাঙ্গণে যেমন লৌহমানব হবে, দাওয়াতের ক্ষেত্রে তেমনি নমনীয়, ধ্যানের কাজে তেমনি নিমগ্ন।
আমরা ধ্যান, দাওয়াত এবং জিহাদের নামে যে শ্রেণী বিভক্তি করেছি সেটা নবীজির আদর্শের বাহিরে। এই শ্রেণী বিভক্তি ভাঙ্গা উচিত। এর ফলে সুফি, তাবলীগ দাওয়াতি বা জিহাদি দলসহ ৭৩ দলে বিভক্ত উম্মত এক হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই ভাঙ্গার কাজটি অনেক জটিল, তাই বরং তরুণদের নিজেকে এমনভাবে তৈরি করা উচিত যেন ঐ সবগুলো বৈশিষ্ট একজনের মধ্যেই থাকে। এই তৈরি হওয়া একজন একজন করেই বিশাল একটি দল হয়ে যাবে। সত্যিকার অর্থে নবীর আদর্শকে লালন করা দল। এরকম কোন দলকেই আল্লাহ টিকিয়ে রাখবেন এবং বিজয় দান করবেন ইন শা আল্লাহ।
প্রশ্ন হলো কখন কোন কাজটি করতে হবে? শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত যদি কাউকে দাওয়াতের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা যায় তবে সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত। জিহাদের ক্ষেত্রে মুসলিম ইতিহাসের শিক্ষা এটাই যে তারা শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত সবর করবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া না হয় ততক্ষণ অপেক্ষা করবে। এমনকি নির্যাতন চরম মাত্রায় পৌছালেও তা সহ্য করবে যতক্ষণনা একজন লিডারের অধীনে প্রস্তুত হওয়া না যায়। অনেকে এটির বিপরীত ধারনা পোষণ করেন। কিন্তু ইসলাম বাস্তবতা বহির্ভূত চিন্তাকে সমর্থন করেনা। আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত হয়ে থাকাও সমর্থন করে না। এক্ষেত্রে নবী মুহাম্মদ সা. এর জীবনের আদর্শ দিয়ে যে শিক্ষা দিয়েছেন সেটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করা মানুষদের উপর যখন চরম নির্যাতন নেমে আসল তখনই তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে পারতেন। কিন্তু সেটি না করে মদিনায় চলে গেলেন। নিজেদের প্রস্তুত করলেন, দাওয়াতের কাজ অব্যাহত থাকল। তখনও মক্কায় থাকা অনুসারীদের উপর জুলুম নির্যাতন চলছিল। এসময় বারবার যুদ্ধ ঘোষণা দেয়ার অনুরোধ আসলেও নবী মোহাম্মদ সা. তা এরিয়ে গিয়েছেন। এক পর্যায়ে আল্লাহর হুকুম আসলো যুদ্ধের জন্য। বদর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন যে যুদ্ধে মুসলমান বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিলো মাত্র ৩১৩ জন। যুদ্ধের মধ্যেও বার্তা দিলেন “আপনারা কোন মহিলাকে আঘাত করবেন না, কোন শিশুকেও না, কোন বৃদ্ধকেও না। সাধারণ জনগণকে কেউ আঘাত করবেন না, কোন কৃষককে আঘাত করবেন না যারা মাঠে কাজ করে, শুধু তাদেরকেই আঘাত করবেন যারা আপনাকে আঘাত করতে আসে, যারা আপনার অধিকার হরণ করেছে এবং আপনার সম্পদ দখল করে ধনি হয়েছে”। বদর যুদ্ধে বিজয়ের পর আবারো দাওয়াতী কাজে মনোনিবেশ করলেন, মদিনা ছাড়িয়ে রোম, পারস্যসহ সারা দুনিয়ায় ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন এবং একইসাথে পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিলেন। এই প্রতিটি ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এই মূহুর্তের সিন্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
ইতিহাস থেকে আরো একটি বড় শিক্ষা হলো মুসলমানরা অতিতেও কখনো অস্ত্র গোলাবারুদে শীর্ষে ছিল না এখনও নাই। তারা বিজয়ী হয়েছে ইমান ও স্পিরিচুয়াল শক্তির জোড়ে। কিন্তু পার্থক্য হলো মুসলিম স্বর্ণযুগের সেই স্পিরিচুয়াল শক্তির লেস মাত্র এখন আমাদের নাই। ফিতনা, বিভ্রান্তিতে ডুবে থাকা উম্মত, না আছে স্পিরিচুয়াল শক্তি না আছে অস্ত্রসস্ত্র। এই অবস্থায় যদি কেউ বলে আপনারা ঝাপিয়ে পরেন! তারমানে বুঝতে হবে এই ইন্ধনের পিছনে শয়তান জড়িত। তার রক্ত পিপাসা পেয়েছে। একজন মুসলিম লিডার বলবেন এ কথা। কিন্তু চারপাশে চোখকান খুলে দেখুন কারা আমাদেরকে ঝাপিয়ে পরার উস্কানি দিচ্ছে। তারা কি আসলে এই উম্মতের মঙ্গল চায়? যদি চাইতো তবে যুদ্ধের উস্কানি দেয়ার আগে পদ্ধতিগত উপায়ের দিকে তাগিদ দিতো। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য রাশিয়াসহ কিছু দেশ ইতিমধ্যে তাদের নাগরিকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, পাঠ্যবইয়ে সামরিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশ খাদ্য মজুদ করে রাখছে, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার তৈরি করা হচ্ছে। এসব পদ্ধতিগত পদক্ষেপে না গিয়ে যারা উস্কানি দেয় তাদের উদ্দেশ্য হটকারিতা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। হটকারি সিন্ধান্ত মানেই ডিপপুলেশন এজেন্ডাকে সহজে বাস্তবায়ন হতে দেয়া। এবং যারা উস্কানি দিচ্ছে তারা এই ইকুয়েশনটি খুব ভালো করে জানে।
আমাদের পদক্ষেপ কি হতে পারে তার জন্য আমাদের অবস্থান এই মূহুর্তে ঠিক কোথায় তা পর্যালোচনা করা দরকার। নবী মুহাম্মদ সা. যে ধরনের সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, আমাদের অবস্থান যাচায় শেষে একই ধরনের মৌলিক সিন্ধান্ত এখন নেয়া যেতে পারে। নিচে আমাদের সম্ভাব্য অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করব:
চেঙ্গিস খানের আক্রমণে মুসলমানরা ভয়াবহ হত্যা নির্যাতনের শিকার হয়। মুসলিম খেলাফত ধ্বংসের পর অসংখ্যবার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। কিন্তু এই সবকিছুর থেকে আলাদা মনে করি ১৯৯০ সাল থেকে শুরু হওয়া মুসলিম নিধন যাত্রাকে। যে যাত্রা আজও চলমান। এর কারণ হলো ১৯৯০ থেকে যে ঘোষণা দিয়ে উপসাগরীয় যুদ্ধের মাধ্যমে ইরাক থেকে মুসলিম নির্যাতন শুরু হয় সেই ঘোষণার নাম ছিল “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার”। আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো এর সাথে চলমান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও থার্ড টেম্পল নির্মাণের হিসাব নিকাশ আছে। ৯০ থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত মুসলিম দেশগুলোর একটা লিস্ট করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেসব দেশকে আক্রান্ত করার কৌশল সম্পর্কেও একটা সাধারণ ধারনা নেয়ার চেষ্টা করলে দেখবেন একই ধরনের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, একই ধরনের বিপ্লব হয়েছে। বিপ্লব পরবর্তী প্রশিক্ষিত পাপেট সরকার বসানো হয়েছে। একই ধরনের আন্দোলন অর্থাৎ বিগত সরকারের দুর্নীতি, স্বৈরাচারী, যুলুম নির্যাতন ইত্যাদির বিরুদ্ধে পাবলিক সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে বিপ্লব। কখনও সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে আক্রমণ, কখনও মরণাস্ত্র আছে জন্য আক্রমণ ও বিপ্লব, কখনও গণতন্ত্র রক্ষার নামে আক্রমণ, লাল বিপ্লব, জেসমিন বিপ্লব, স্বৈরাচার হটাও বিপ্লব, বসন্ত বিপ্লব ইত্যাদি। একটাও হিন্দু, বৈদ্ধ বা খ্রীষ্টান রাষ্ট্রে এমন বিপ্লবের প্রয়োজন পরেনি!
যাহোক ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্প প্রায় শেষের দিকে বলে মনে করি। এই ডেডলাইন নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ডেডলাইনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। একাধিক রেফারেন্স অনুযায়ী ২০৩০ সালকে তাদের হাজার বছরের স্বপ্নের নতুন বিশ্ব গড়ার প্রকল্পের ডেডলাইন হিসেবে মনে করা হয়। এর কিছু আগে পরে তারা লক্ষ্যে পৌছাতে চায়। এছাড়া ধর্ম গ্রন্থ, থার্ড টেম্পলের নির্মাণ অগ্রগতি, গ্রেটার ইসরায়েল প্রকল্প, গ্রেট রিসেট প্রকল্প, এজেন্ডা ২০৩০ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাব্য ডেডলাইন পর্যালোচনার মাধ্যমেও একইরকম আলামত পাওয়া যায়। মুসলমান নির্যাতন শেষ হওয়ার পর্বও এই ডেডলাইনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। কারণ হিসেবে বেশ কিছু পয়েন্ট আগের একটি লেখায় তুলে ধরি। আসলে তাদের পরিকল্পনা তাদের কাছে। আল্লাহর পরিকল্পনা নিশ্চয় উত্তম।
সংশ্লিষ্ট সবকিছু পর্যালোচনা করে বলা যায়, মুসলমানরা তাদের উপর চলা নির্যাতন পর্বের একদম শেষ মূহুর্তে এবং ঘুড়ে দাড়ানোর আগ মূহুর্তের ঠিক ট্রানজিশনাল পয়েন্টে দারিয়ে আছে। এখন শত্রুরা নির্যাতনের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর করবে। অপরদিকে মুসলমানরা খোঁড়াতে খোঁড়াতে ঘুরে দাড়ানো শুরু করবে। এ সময় নির্ভুলভাবে শত্রু মিত্র নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় যুদ্ধে এক পক্ষ পালিয়ে যাবে। আরেকটি পক্ষ পরাজিত হবে। চূড়ান্ত পর্বে গিয়ে ধ্বংসস্তুপ থেকে এক পক্ষ ঘুরে দাড়াবে, তারা আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং বিজয়ী হবে। তারাই বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত বিজয়ের পতাকা উড়াবে।
প্রতিটি ধাপে নবী মুহাম্মদ সা. বিশেষ করে যেভাবে বদর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মৌলিক সিন্ধান্তগুলো গ্রহণ করা উচিত। ভারত উপমহাদেশের ভয়ংকর যুদ্ধকে তো সে সময়ের বদর যুদ্ধের সাথেই তুলনা করা হয়েছে।
নিজেকে আড়ালে রাখুন
সম্ভাব্য চূড়ান্ত অরাজক পরিস্থিতিতে সেলিব্রিটিরা খুব সহজেই টার্গেটে পরিণত হতে পারে। তাই নিজেদের যথাসম্ভব আড়াল করে রাখুন, নিরবে কাজ করে যান। মক্কার যুবকরা রাতজেগে গোপনে ইসলাম চর্চা করতেন। অথবা আসহাবে কাহফের যুবকদের কথা চিন্তা করুন যারা নিজেদের পরিচয় আড়ালে রেখে রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময়কে কল্পনা করুন এবং এখন একইভাবে নিজেদের প্রস্তুত করুন। সত্যের পথে কেউ লড়ায়ের প্রস্তুতি শুরু করলে শকুনরা ঝাঁপিয়ে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। আর যদি দেখে কিছু প্রতিভা আছে আবার ভেজালও আছে তবে এই সভ্যতা তাকে সেলিব্রিটি বানিয়ে দিবে। তাছাড়া প্রকৃত সত্যের সৈনিকদেরকে ডার্ক ফোর্সের সম্মিলিত বাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে। এদের মোকাবিলা করার কৌশল রপ্ত করা প্রস্তুতি পর্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রস্তুতি পর্ব নিরবে সেরে ফেলুন। কোন সংগঠনের ব্যানারে অংশগ্রহণ জরুরী নয়। বরং তাতে ঝুকি বেশি। কে কোন দলের সেটাও মুখ্য নয়। লক্ষ্য যাদের সাথে মিলবে তার সাথে হাত মিলবে। না হলে একলা চলে রে! আবার উল্লেখ করছি মজলুমরা নির্যাতিত হওয়ার শেষ মূহুর্ত এবং ঘুরে দাড়ানোর আগ মূহুর্তের ঠিক ট্রানজিশনাল পয়েন্টে দাড়িয়ে আছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নিরবে প্রস্তুতি শুরু করে দিন।
স্পিরিচুয়াল শক্তি
এটি এমন এক ধরনের অভ্যন্তরীণ শক্তি যা কোনো ব্যক্তির আত্মিক উন্নয়ন, মানসিক স্থিরতা, ধর্ম, সাধনা, ধ্যান, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং আত্ম-অনুসন্ধানের মাধ্যমে অর্জিত হয়। ডার্ক ফোর্স কারো চেতনায় যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ইসলামের স্পিরিচুয়াল শক্তির মাধ্যমে তার বিপরীত ইতিবাচক প্রভাব ফেলা যায় এবং নেতিবাচক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া যায়। এটি এমন এক ধরনের প্রজ্ঞা এবং অন্তর্দৃষ্টি তৈরি করতে পারে যা জগৎ ও জীবনের গভীরতর অর্থ অনুধাবনের ক্ষমতা রাখে। দাজ্জালের ফিতনা ও চারপাশে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা চক্রান্ত চিহ্নিত করতে এই উপলব্ধিবোধকে জাগ্রত করা অত্যন্ত জরুরী। এজন্য ইয়োগার ফাঁদে পরবেন না আবার। এ বিষয়ে আলেম বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। এখানে আমার নিজস্ব কিছু উপলব্ধি শুধু শেয়ার করবো।
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আদেশ নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালনের মাধ্যমে এই শক্তি অর্জন করা সম্ভব। প্রয়োজনে হিজরত করতে হবে। হিজরত মানে শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া নয়। হিজরত হলো দ্বীনের প্রয়োজনে কোন কিছু ত্যাগ করা। প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে দ্বীনের জন্য অনেক বড় ত্যাগ ছিল। আমাদের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যাওয়ার দরকার পরেনি এখনও। কিন্তু সত্যের রাস্তায় আসতে হলে হিজরত করতে হবে। মিথ্যা বলা বন্ধ করুন, দেখবেন সমস্ত অন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে। সুদের চাকরী ছেড়ে দিন। এটা হিজরত। ঘুষ বা যেকোন অসদুপায়ে চাকরী নিয়ে থাকলে সেই ইনকাম কোনভাবে হালাল হবে না। ঐ চাকরী ছেড়ে দিন। মানুষ ঠকানো ব্যবসা, জুলুম, নির্যাতন বন্ধ করে ফিরে আসুন। সবার জানা এই বিষয়গুলোই আসলে প্রস্তুতির অনেক বড় অংশ এবং ইমানকে মজবুত করা ও স্পিরিচুয়াল শক্তি অর্জনের হাতিয়ার।
ফরজ আমলের পাশাপাশি আত্নিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য জিকির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য গুহায় যাওয়ার সুযোগ নেই। কোন দরবারে গিয়ে চিৎকার করে জিকির করা নয়। কারো অন্তর চিৎকার করতে পারে কিন্তু পাশের কেউ টের পাবেনা। প্রতিটি স্পন্দনে যখন যেই অবস্থানে, জিকির চলবে। রাত তিনটা, সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর খুব কাছাকাছি পৌছে যাওয়ার উত্তম সময়। খাইতে, শুইতে, বাথরুমে যেতে, ঘর থেকে বের হতে, ঘরে প্রবেশের সময়, প্রতিটি মূহুর্তে দোয়ার মাধ্যমে চারপাশে একটি বলয় তৈরি করা যেন ডার্ক ফোর্সের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা যায় এবং আত্নিক শক্তি বৃদ্ধি করা যায়। এই সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূরা হলো সূরা কাহাফ। দাজ্জালের ফিতনার মহৌষধ এর ভিতর রয়েছে। তা না হলে কেন দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাচতে সূরা কাহাফের উপর এতো জোর দেয়া হলো! সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত প্রতি শ্রক্রবার পড়ুন। প্রতি মূহুর্তে পড়ুন রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইয়্যি লানা মিন আমরিনা রাশাদা। কারণ যেকেউ যেকোন মূহুর্তে দাজ্জালের ফিতনায় পরে ভুল সিন্ধান্তে যেতে পারে, বিভ্রান্তিতে পরে ইমান হারা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কখন বুঝবেন আপনি এই শক্তি অর্জন করেছেন? সত্যিকার অর্থে কেউ এই তালিকায় নাম লিখালে একের পর এক পরীক্ষা এসে হাজির হবে। একটা পরীক্ষায় পাশ করলে আরেকটা। আর একটার পর একটা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মানে শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া। কখনও রোগ, বিপদ আপদ, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট, ভয় ভীতি ইত্যাদি নানা রকম পরীক্ষা এসে হাজির হতে পারে। প্রতিটি পরীক্ষায় পাশ করার মাধ্যমে একটা পর্যায়ে নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে, ধীরে ধীরে প্রস্তুত হয়ে যাবেন, শয়তানও হাল ছেড়ে দিবে ইন শা আল্লাহ। সেই মূহুর্তে আল্লাহর আদেশ নিষেধের এক সুচ পরিমাণ বাহিরে গেলে আপনার অন্তর কেপে উঠবে। একটি সচেতন সত্তা জাগ্রত হবে যা অন্যায় কাজ করতে বাধা দিবে। মাঝে মাঝে হয়ত অনুভব করবেন সেই সচেতন সত্তা বা কোন এক অদৃশ্য শক্তি আপনাকে গাইড করছে। এটিই ইমানের শক্তি বা স্পিরিচুয়াল শক্তি। এই শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। কোন বিকল্প নাই।
মধ্যমপন্থা অবলম্বন
আক্রমনাত্নক নাকি রক্ষনাত্নক? বাড়াবাড়ি, ছাড়াছাড়ি নাকি মাঝামাঝি? আমরা ইতিহাসের এমন একটা সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছি যেখানে প্রতিটি ধাপ সাবধানে ফেলতে হবে। চুল পরিমাণ ভুল করলে শত্রুতা সেই দুর্বলতার সুযোগ নিবে। আর ভুলের মাঝে হাবুডুবু খেয়ে হটকারিতা করে মুক্তির স্বপ্ন দেখলে রক্ত ঝরার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তাই কোন কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, ছাড়াছাড়িও নয়। ইসলামের শিক্ষা হলো প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। সেটা রাষ্ট্রীয় সিন্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে হোক অথবা যুদ্ধক্ষেত্রে হোক।





এখানে একজন নারী কি ভূমিকা রাখতে পারে এসব বিষয়ে মানে কথা হচ্ছে নারীরা তো বাইরে যেতে পারবে না যুদ্ধ এর জন্য